Omar Faruk Montu Vs. The State [4 LNJ (2015) 203]

Judge: Md. Abu Zafor Siddique,

Court: High Court Division,,

Advocate: Mr. Mohammad Ali Khan,Mr. Fazlur Rahman Khan,Mr. Yusuf Mahmud Morshed,Mr. Kazi Ebadat Hossain,,

Citation: 4 LNJ (2015) 203

Case Year: 2015

Appellant: Omar Faruk Montu

Respondent: The State

Subject: Expert Opinion,

Delivery Date: 20104-06-18


হাইকোর্ট বিভাগ
(ফৌজদারী অ্যাপিলেট অধিক্ষেত্র)
 
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
এবং
বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিক্কী

রায় ঘোষনার তারিখঃ
18/06/2014
}
}
}
}
}
}
ওমর ফারুক মন্টু
---আপীলকারী।
বনাম
রাষ্ট্র
---প্রতীবাদী
 
 
Penal Code (XVI of 1860)
Section 34
একই অভিপ্রায় পুরনকল্পে একাধিক ব্যক্তি যখন কোন একটা অপরাধমূলক কার্য করেন, তখন তাহাদের প্রত্যেক ব্যক্তি সেই অপরাধের জন্য দায়ী হন, ইহাই দন্ড বিধির ৩৪ ধারা প্রতিপাদ্য বিষয় ...(37)
 
Code of Criminal Procedure (V of 1898)
Section 342
আপীলকারীর বিরুদ্ধে সাক্ষীগন আদালতে কি বক্তব্য রাখিয়াছেন, যাহাতে অভিযুক্ত ব্যক্তির দন্ডিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে, তাহা সুনিদৃষ্টভাবে তাহাকে অবগত করা হয় নাই, বিজ্ঞ বিচারক কেবলমাত্র পরীক্ষিত সাক্ষীর সংখ্যা উল্লেখ করিয়াছে মাত্রz ইহাতে দন্ডিত আপীলকারী ন্যায় বিচার হইতে বঞ্চিত হইয়াছেz এই প্রসঙ্গে সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হইল; “No one should be condemned unheard. And it is utmost duty of the Court to give an opportunity to an accused to defence himself.” ...(55)
 
Evidence Act (I of 1872)
Section 45
বোমা বিষ্ফোরন সংঘটিত হইলে বা কেহ আহত বা নিহত হইলে মামলাটি সংশ্লিষ্ট আইনে প্রমানের জন্য জব্দকৃত আলামত অবশ্যই রাসায়নিক পরীক্ষা (Chemical test) করিয়া বিশেষজ্ঞের মতামত (Expert opinion) সংগ্রহ করা তদ¿¹কারী কর্মকর্তার (Investigating Officer) দাীয়ত্ব ছিল, বিষ্ফোরক âব্যের (Explosive substance) মামলা প্রমানের জন্য ইহা আইনানুগভাবে অবশ্য পালনীয় কার্য (Mandatory Provisions of Law). ...(74)
 
Evidence Act (I of 1872)
Sections 3 and 45
বিষ্ফোরক দ্রব্য (Explosive Substacne) রাসায়নিক পরীক্ষা (Chemical test) করিয়া বিশেষজ্ঞ মতামত (Expert opinion) গ্রহন না করিয়া বোমা বিষ্ফোরনে হত্যার বিষয়ে যে প্রশণ সৃষ্টি হইয়াছে, তাহা ময়না তদমতকারী ডাত্তুারের মতামতে সুপ্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। অভিযুত্তু আসামীর বিরতদ্ধে গঠিত অভিযোগ প্রমানে সন্দেহের সৃষ্টি হইলে তাহার ফলাফল Benefit of doubt আইনানুগ ভাবে আপীলকারীর পক্ষে নিষ্পত্তি হইবে। ...(৮২)

State of U.P. Vs. Ballabh Das and others, AIR 1985 1384; Yogeshwar Gope Vs. The State, 58 DLR (AD) 73; Harun Sheikh @ Harunur Rashid and another Vs. The State, 8 BLD 425 (HCD) 1988; Md. Isahaque Ali and others Vs. The State, 16 BLT 69 (HCD) 2008; State Vs. Monu Meah, 6 BLC 402 (HCD) 2001; State Vs. Badshah Mollah, 41 DLR 11; Mizazul Islam alias Dablu Vs. The State, 41 DLR (AD) 157; Nurul Islam alias Nur Islam Vs. The State, 18 BLD 695 (HCD) 1998; Mizazul Islam @ Dablu Vs. The State, 41 DLR (AD) 157 (1989); Sarwan Singh Rattan Singh Vs. State of Pubjab, A.I.R 1957 (SC) 637; Aminul Islam alias Ranga and others Vs. The State, 5 BLC (AD) 179 (2000); Mohammad Ali and another Vs. The State, 1 BLC 164 (HCD) 1996; Halim Sheikh and other Vs. The State, 13 BLC 102 (HCD) 2005; Zamir Ali (Md) and others Vs. The State, 59 DLR 433 (HCD) 2007; Mohammad Shafi Vs. The Crown, 6 DLR 104 (AD) West Pakistan 1954; Md. Baharuddin Mia Vs. The State, 9 DLR 209 (HCD) 1957; Mezanur Rahaman and others Vs. The State, 16 BLD 293 (AD) 1996; Mezanur Rahaman and others Vs. The State, 2 BLC 27 (AD) 1997 and 16 BLD 293 (AD) 1996; The State Vs. Altazur Rahaman, 2 BCR 264 (AD) 1982; Gamdoor Singh Vs. The State, 1981 CRL. LJ. 1912 and Al-Amin and 5 others Vs. the State, 51 DLR 154 (HCD) 1999 and 19 BLD (HCD) 1999 ref.
 
জনাব মোহাম্মদ আলী খান, এ্যাডভোকেট।
- - - - আপীলকারী পক্ষে।
জনাব ফজলুর রহমান খান, ডি,এ,জি সঙ্গে
জনাব ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ ও
জনাব কাজী এবাদত হোসেন, এ,এ,জি
- - - প্রতিবাদী পক্ষে।
 
রায়
বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকীঃ
 
ইহা ফৌজদারী কার্য বিধির ৪১০ ধারার বিধান মোতাবেক দন্ড ও সাজার বিরতদ্ধে একটি ফৌজদারী আপীল।

অতিরিত্তু দায়রা জজ, ৩য় আদালত, যশোর,  দায়রা মামলা নং-৬৮/১৯৯৬ যাহা যশোর কতোয়ালী থানার মামলা নং-২৪ তারিখ ১৩/০৯/১৯৯৪ এবং জি,আর নং-১০৭৩/১৯৯৪ ধারা ৩০২/৩৪ দন্ড বিধি হইতে উদ্ভুদ এবং উহাতে আপীলকারীকে দন্ড বিধির ৩০৪ (প্রথম ভাগ) ধারায় দোষী সাব্যসত করিয়া গত ইং ১৭/০৫/১৯৯৯ তারিখে ১০ (দশ) বৎসর সশ্রম কারাদন্ড ও ২,০০০/- হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে অতিরিওু ১ (এক) বৎসর সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ হইলে আপীলকারী উওু দন্ডাদেশ ও  সাজার রায়ে সংক্ষুব্দ হইয়া অত্র  ফৌজদারী আপীল দায়ের করেন।

আপীলটি নিষ্পত্তির স্বার্থে রাষ্ট্র পক্ষের মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরন এই যে, মোঃ আনোয়ার হোসেন গত ইং ১৩/৯/১৯৯৪ তারিখে রাত ০০.১৫ ঘটিকায় যশোর কোতয়ালী থানায় হাজির হইয়া এই মর্মে এজাহার করেন যে, ইং ১২/৯/১৯৯৪ তারিখে রাত অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় আপীলকারী ওমর ফারতক ওরফে মন্টু সহ এজাহার নামীয় ১৬ জন আসামী বেআইনী জনতায় দলবদ্ধ হইয়া মারাত্মক অসএসসএ ও বোমা সহ তাহার বাড়ীতে অনধিকার প্রবেশ করে এবং আসামী মন্টু, মনা, শরীফ, কালাম ও টিটো এলোপাথারী ভাবে বাড়ীর ভিতরে বোমা নিক্ষেপ করিতে থাকে। বোমার আঘাতে তাহার কাজের মেয়ে নাসিমার মাথায় ও ঘাড়ে রত্তুাত্তু জখম হইয়া ঘটনাসহলে মারা যায়, এজাহারকারীর বাম হাতের কুনুই ও তাহার  ভাই সরোয়ারের মাথায় এবং আলমের বাম পায়ে রত্তুাওু জখম হয়। তাহাদের পৈতৃক সম্পত্তি লইয়া দীর্ঘদিন যাবৎ আসামীদের সহিত মামলা মোকর্দ্দমা থাকায় পূর্ব শত্রততার জের হিসাবে আসামীরা এই ঘটনা ঘটাইয়াছে। বোমার শব্দে ও ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশী সাক্ষীগন ঘটনাসহলে আসিয়া ঘটনা দেখে ও শুনে এবং তাহারা বৈদ্যুতিক লাইটের আলোতে আসামীদের চিনিয়াছে। অতঃপর মোঃ আনোয়ার হোসেন যশোর কোতয়ালী থানায় হাজির হইয়া এজাহার দায়ের করেন।

তদমতকারী কর্মকর্তা ঘটনাসহলে যাইয়া নিহত নাসিমার সুরতহাল রিপোর্ট প্রসতুত করিয়া লাশের ময়না তদমেতর প্রয়োজনীয় ব্যবসহা গ্রহন করেন। ঘটনাসহল পরিদর্শন করিয়া সূচীপত্র সহ খসড়া মানচিত্র অঙ্কন, আলামত জব্দ করিয়া জব্দ তালিকা প্রসতুত এবং বাদী ও সাক্ষীদের বত্তুব্য ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারার বিধান মোতাবেক লিপিবদ্ধ করেন। মামলাটি সার্বিক তদমেত এজাহারে বর্ণিত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় দন্ডিত আপীলকারী সহ এজাহার নামীয় ১৬ জন আসামীর মধ্যে ৫ জনের বিরতদ্ধে দন্ড বিধি ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ পত্র দায়ের করেন।

মামলাটি বিচারের জন্য প্রসতুতের পর বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালত, যশোরে প্রেরিত হইলে তিনি উহা নিষ্পত্তির জন্য অতিরিত্তু দায়রা জজ, ৩য় আদালত, যশোরে প্রেরণ করেন। বিচারিক আদালত দন্ডিত আপীলকারী সহ অন্যান্যদের বিরতদ্ধে ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করিয়া পাঠ করিয়া শুনাইলে তাহারা নিজেদের নির্দোষ দাবী করিয়া বিচার প্রার্থনা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি প্রমানের জন্য মোঢ~ ৯ জন সাক্ষী আদালতে পরীক্ষা করিয়াছে, আপীলকারী পক্ষের আইনজীবী তাহাদের জেরা করিয়াছে, কিমুত আসামী পক্ষ কোন সাফাই সাক্ষী দেন নাই বা অন্য কোন কাগজ পত্র বিচারিক আদালতে উপসহাপন করেন নাই। সাক্ষীদের জবানবন্দী ও জেরা সমাপ্তির পর বিজ্ঞ বিচারক কর্তৃক অাসামীকে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারার বিধান মোতাবেক পুনরায় পরীক্ষা করা হইলে এবারও তাহারা নিজেদের নিদোর্ষ দাবী করেন।

বিচারিক আদালত উভয় পক্ষের যুত্তিু তর্ক, রাষ্ট্র পক্ষের উপসহাপিত সাক্ষীদের প্রদত্ত সাক্ষ্য ও নথিতে সংরক্ষিত কাগজপত্র পর্যালোচনা করিয়া উপরে উল্লেখিত দন্ডাদেশ ও সাজার রায় প্রদান করিয়াছেন। উত্তু রায়ে দন্ডিত আপীলকারী সংক্ষুদ্ধ ও অসমুতষ্ট হইয়া তর্কিত রায়ের বিরতদ্ধে এই আদালতে অত্র ফৌজদারী আপীল মোকর্দ্দমা দায়ের করিয়াছেন।

নথি দৃষ্টে ইহা প্রতিয়মান হয় যে, অত্র আপীলটি গত ইং ১৬/০৬/১৯৯৯ তারিখে দায়ের হয় এবং ইং ২২/০৬/১৯৯৯ তারিখে গৃহীত হওয়ার পর নিমণ আদালতের নথি পাওয়া ও পেপার বুক প্রসতুত সাপেক্ষে গত ইং ২৭/০৬/২০০২ তারিখে ইহা শুনানীর জন্য প্রসতুত হইয়াছে। পরবর্তীকালে আপীলকারী গত ইং ০৫/০৩/২০০৩ তারিখে জামিন লাভ করিয়া মামলাটি শুনানীর জন্য সুদীর্ঘ ১১ বৎসর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন নাই।

আপীলটি শুনানীর জন্য এই আদালতের কার্য তালিকায় আসিলে জনাব মোহাম্মদ আলী খান, বিজ্ঞ কৌশুঁলী দন্ডিত আপীলকারীর পক্ষে আদালতে উপসিহত হইয়া বলেন, বিজ্ঞ অতিরিত্তু দায়রা জজ, ৩য় আদালত, যশোর মামলার ঘটনা, পারিপার্শ্বিকতা ও রাষ্ট্র পক্ষের পরীক্ষিত সাক্ষ্য বিচারকের দৃষ্টিভঙ্গিঁতে বিবেচনা না করিয়া আইনগত ও ঘটনাগত ভূল করিয়াছে। তিনি বলেন, অত্র মামলায় এজাহারে ১৬ জন আসামীর নাম উল্লেখ করা হইলেও পুলিশ তদমত করিয়া মাত্র ৫ জন আসামীর বিরতদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করিয়াছে এবং ১১ জন এজাহার নামীয় আসামীকে অব্যহতি প্রদান করিয়াছে,  যাহার বিরতদ্ধে এজাহারকারী সংশ্লিষ্ট আদালতে কোন নারাজী দরখাসত দেন নাই।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ মামলা প্রমানের জন্য বিচারিক আদালতে ৯ (নয়) জন সাক্ষী উপসহাপন করিয়াছে, কিমও নিকট প্রতিবেশী ও নিরপেক্ষ কোন সাক্ষী পরীক্ষিত হয় নাই। রাষ্ট্রপক্ষের উপসহাপিত সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে বিজ্ঞ বিচারক কেবল মাত্র আপীলকারীকে দন্ড ও সাজা প্রদান করিয়াছেন। অভিযুত্তু অন্য ৪ জন নির্দোষ প্রমানিত হওয়ায় তাহাদের অত্র মামলার অভিযোগের দায় হইতে খালাস প্রদান করা হইয়াছে। সেকারন মামলার এজাহার আদৌ সত্য নয়, পরিকল্পিত ভাবে এজাহারকারী নিজে অথবা তাহাদের বাড়ীর লোকজন কাজের মেয়ে নাসিমাকে হত্যা করিয়া পূর্ব শত্রততার কারনে আপীলকারী সহ অন্যান্য আসামীর বিরতদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়াছে। তিনি পুনরায় বলেন, সেইকারনে পুলিশের সাথে যোগসাজসী ভাবে নিহত নাসিমার বাবা-মাকে এই মামালার সাক্ষী মান্য করিয়া পরীক্ষা করা হয় নাই। তাহা ছাড়াও নিহত নাসিমার মা নিজে বাদী হইয়া এজাহারকারী সহ অন্যান্য সাক্ষীদের বিরতদ্ধে ১টি হত্যা মামলা দায়ের করিয়াছিল, যাহা পরবর্তী কালে এজাহারকারী জমিজমার বিনিময়ে বেআইনীভাবে নিহতের বাবা/মায়ের সহিত আপোষ মিমাংসা করিয়াছে। জনাব মোহাম্মদ আলী খান আরো বলেন, এই মামলার সাক্ষীগন পরষ্পর আত্মীয় এবং এক দলভুত্তু লোক। এজাহারকারী নিজে তাহার এজাহারে যে কথা বলেন নাই, তাহা ১নং সাক্ষী  হিসাবে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান কালে   বলিয়া  এজাহারের  ঘটনা  হইতে সরিয়া গিয়াছে  যাহা Subsequent embellishment হওয়ায় উহা গ্রহন যোগ্য সাক্ষ্য হিসাবে বিবেচিত হইবে না। 

তিনি বলেন, নাসিমা বোমার আঘাতে নিহত হইয়াছে, তাহা ময়না তদমত রিপোর্টে মেডিকেল অফিসার উল্লেখ করে নাই, সেকারন মামলাটির তদমতকারী কর্মকর্তা নিহত নাসিমার শরীরের যখমগুলি কোন ধরনের অসএ দ্বারা সংঘটিত হইয়াছে, তাহার ব্যাখ্যা চাহিলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রেডিওলজিষ্ট কর্তৃক প্রসতুতকৃত অত্র সংত্রুামত প্রতিবেদন প্রেরন করিয়াছে, যাহাতে তিনি উল্লেখ  করিয়াছে যে, কোন  ভোতা অসেএর দ্বারা উত্তু জখম সংঘটিত হইতে পারে। উল্লেখিত জখমের ভিতর কোন স্পিলিন্ট বা বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য পাওয়া যায় নাই। জনাব মোহাম্মদ আলী খান বলেন, ঘটনাসহল থেকে উদ্ধারকৃত আলামত কোন বিষ্ফোরক বিশেষজ্ঞ দ্বারা রাসায়নিক পরীক্ষা করাইয়া প্রতিবেদন গ্রহন করা হয় নাই, যাহার আইনগত ফলাফল আপীলকারী পাইবে।

তিনি বলেন, বিজ্ঞ বিচারক রাষ্ট্র পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহন শেষে দন্ডিত আসামীকে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারা মোতাবেক সঠিক ভাবে পরীক্ষা করেন নাই। যাহাতে উত্তু আইনের অবশ্য পালনীয় কর্তব্যের ব্যত্যয় ঘটিয়াছে, সেকারন দন্ডিত আসামী ন্যায় বিচার হইতে বঞ্চিত হইয়াছে। তিনি বলেন, নিমণ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মামলার ঘটনা, প্রাসঙ্গিকতা এবং প্রচলিত আইন অনুস্বরণ না করিয়া ভাবাবেগ দ্বারা তাড়িত হইয়া সম্পুর্ন দায় সারা ভাবে বিচারকার্য সম্পন্ন করিয়াছেন, অনুরতপ অবসহায় তর্কিত দন্ড ও সাজার রায় রক্ষনীয় নহে, তিনি ন্যায় বিচারের স্বার্থে তর্কিত রায় রদ-রহিতের জন্য প্রার্থনা করেন।

জনাব মোহামদ আলী খান তাহার বত্তুব্যের স্বপক্ষে এই আদালত সহ আপীল বিভাগের বেশ কিছু সংখ্যক মামলার নজির উপসহাপন করিয়াছে,  যাহা ন্যায় বিচারের স্বার্থে এই রায়ের শেষাংশে প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজনীয়তা নির্ণয়ের জন্য আলোচনা ও আমাদের মতামত প্রদান করা হইবে।

জনাব ফজলুর রহমান খান, বিজ্ঞ ডেপুটি এ্যাটর্ণী জেনারেল, সঙ্গে জনাব ইউসুফ মাহ্মুদ মোর্শেদ ও কাজী এবাদত হোসেন বিজ্ঞ সহকারী এ্যাটর্ণী জেনারেল দ্বয় রাষ্ট্র পক্ষে উপসিহত হইয়া আপীলকারী পক্ষের বত্তুব্যের তিব্র বিরোধিতা করিয়া বলেন, অত্র মামলায় আপীলকারী সহ অন্যান্য আসামীগন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন অসএ-সসএ ও বোমা বহন করিয়া এজাহারকারীর বাড়ীতে অনধিকার প্রবেশ করিয়া হামলা চালায় এবং আপীলকারী ওমর ফারতক ওরফে মন্টুর নিক্ষেপ করা বোমার আঘাতে এজাহারকারীর বাড়ীর কাজের মেয়ে নাসিমা ঘটনাসহলে নিহত হয়। ঘটনা সংঘটিত হওয়ার মাত্র ২ ঘন্টা ১৫ মিনিটের মধ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় যাইয়া আপীলকারী সহ অন্যান্য ১৬ জন আসামীর বিরতদ্ধে মামলা দায়ের করিয়াছে। তিনি বলেন, পরীক্ষিত ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬ জনই ঘটনার প্রত্যক্ষ দেখা সাক্ষী। তাহারা সকলেই বৈদ্যুতিক আলোয়ে আসামীদের চিনিয়াছে এবং বোমা নিক্ষেপ করিতে দেখিয়াছে, তাহারা একে অপরের বত্তুব্য জোরালো ভাবে সমর্থন করিয়া আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে এবং জব্দকৃত আলামত সহ আপীলকারীকে আদালতের কাঠগড়ায় সনাত্তু করিয়াছে।

জনাব ফজলুর রহমান খান বলেন, আপীলকারী নিহত নাসিমাকে নৃসংশভাবে বোমা বিষ্ফোরন ঘটাইয়া হত্যা করিয়াছে। বোমার আঘাতে নাসিমার মৃত্যু হইয়াছে, ইহা ময়না তদমত রিপোর্টে উল্লেখ থাকার কোন প্রয়োজন নাই বা ইহা সংশ্লিষ্ট ডাত্তুারের কাজও নয়। বিজ্ঞ ডেপুটি এ্যটর্ণী জেনারেল আরো বলেন, বোমা বিষ্ফোরনে নিহত হইলে বিষ্ফোরক দ্রব্য বা আলামত বিশেষজ্ঞ দ্বারা রাসায়নিক পরীক্ষা করার কোন প্রয়োজন নাই, কারন ইহা একটি হত্যা মামলা, বিষ্ফোরক দ্রব্যের মামলার ক্ষেত্রে উহা প্রয়োজন হইতে পারে। সংঘটিত হত্যাকান্ডের মামলাটি রাষ্ট্র পক্ষ পরষ্পর সমর্থনযোগ্য সাক্ষ্য দ্বারা (Corroborative evidence) বিচারিক আদালতে প্রমান করিয়াছে। জনাব ফজলুর রহমান খান Subsequent embellishment সম্পর্কে বলেন, এজাহারকারী ঘটনা সংঘটিত হওয়ার অব্যবহিত পরেই এজাহার করিয়াছে, তিনি সঠিক ভাবেই তাহার এজাহার সমর্থন করিয়া সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে, যাহা অন্যান্য চাক্ষুস দেখা সাক্ষীগন জোরালো ভাবে তাহার বত্তুব্য সমর্থন করিয়া আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে। ইহাতে মামলার গুনাগুনের (Merit) কোন ক্ষতি হয় নাই।

তিনি আপীলকারী পক্ষের বত্তুব্য প্রত্যাক্ষান করিয়া বলেন, এজাহারকারীর বিরতদ্ধে নিহত নাসিমার মা কোন হত্যা মামলা করেন নাই। নিমণ আদালতে বিজ্ঞ বিচারক কর্তৃক ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারার বিধান মোতাবেক পরীক্ষা কালে দন্ডিত আপীলকারীকে প্রশণ করা হইলে তিনি কিছু বলিবেন না বলিয়া আদালতকে সুষ্পষ্টভাবে জানাইয়াছে, তাহাছাড়াও কথিত হত্যা মামলার কোন অসিতত্তব এই মামলায় বিচার কালে দৃশ্যত: হয় নাই। নিহত নাসিমার বাবা-মা ঘটনার প্রত্যক্ষ্য সাক্ষী না হওয়ায় এবং ঘটনা সহলে তাহারা উপসিহত না থাকার কারনে তদমতকারী কর্মকর্তা এই মামলায় তাহাদের আবশ্যকীয় সাক্ষী হিসাবে চার্জশীটে অমতর্ভুত্তু করেন নাই, ইহাতে মামলার গুনগত কোন ক্ষতি হয় নাই।

তিনি বলেন, দন্ডিত আপীলকারীর পরিবারের সাথে এজাহারকারী পূর্ব শত্রততা থাকার কারনেই তাহাদেরকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এজাহারকারীর বাড়ীতে আপীলকারী পরিকল্পিতভাবে অন্যান্য আসামীদের সহযোগীতায় বোমা হামলা চালাইয়াছে, যাহা পরীক্ষিত সাক্ষীগন একে অপরকে সমর্থন করিয়া বিচারিক আদালতে সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে মামলাটি প্রমান করিয়াছে।

জনাব ফজলুর রহমান খান বলেন, ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারা মোতাবেক নিমণ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সঠিকভাবে আপীলকারীকে পরীক্ষা করিয়াছে। ইহাতে প্রচলিত আইনের কোন ব্যত্যয় ঘটে নাই। তিনি বলেন, দন্ডিত আপীলকারীর নিক্ষেপ করা বোমার আঘাতেই নাসিমা নিহত হইয়াছে, যাহা রাষ্ট্র পক্ষ সাক্ষ্য দ্বারা প্রকাশ্য আদালতে সন্দেহাতীত ভাবে প্রমান করিতে সক্ষম হইয়াছে। সেকারন তিনি তর্কিত রায়ের উপর এই আদালতের হসতক্ষেপ না করিয়া ন্যায় বিচারের স্বার্থে আপীলটি খারিজ করিয়া নিমণ আদালতের দন্ড ও সাজার রায় বহাল রাখার প্রার্থনা করেন।

বিজ্ঞ ডেপুটি এ্যাটর্ণী জেনারেল তাহার বত্তুব্যের সমর্থনে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিসহানের বেশ কিছু সংখ্যক মামলার নজির উপসহাপন করিয়াছে, সঠিক সিদ্ধামেত উপনিত হওয়ার জন্য উত্তু নজির সমূহের প্রাসঙ্গীকতা ও প্রয়োজনীয়তা নির্নয়ের জন্য এই রায়ের শেষাংশে আলোচনা ও আমাদের মতামত প্রদান করা হইবে।

অত্র আপীলটি শুনানী কালে রাষ্ট্র পক্ষের পরীক্ষিত সাক্ষ্য ও নিমণ আদালতের নথিতে সংরক্ষিত প্রাসঙ্গিক কাগজ-পত্র ন্যায় বিচারের স্বার্থে পর্যায়ত্রুমে নিবিড় ভাবে পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করা হইল; 

রাষ্ট্র পক্ষের ১নং সাক্ষী, শেখ মোঃ আনোয়ার হোসেন, এজাহার সমর্থন করিয়া সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে। ঘটনার তারিখ, সময় এবং আসামীদের নাম সহ তাহাদের বৈদ্যুতিক আলোতে চেনার কথা বলিয়াছে। আপীলকারী মন্টু কর্তৃক ছোড়া বোমার আঘাতে তাহার কাজের মেয়ে নাসিমা নিহত হইয়াছে। সঙ্গীয় আসামী মনা, কালাম, টিটো, লোকমান, বাবু, রহমান, চান্দু ও ইসমাইলের নাম এবং তাহাদের বিরতদ্ধে সুনিদৃষ্ট অভিযোগ আদালতে বলিয়াছে। তিনি এজাহার, তাহার স্বাক্ষর প্রদর্শনী-১ ও ১/১ হিসাবে প্রমান করিয়াছে। জেরায়- আপীলকারী পক্ষে সাজেশন তিনি প্রত্যাক্ষান করিয়াছে, তবে স্বীকার করিয়াছে যে, প্রথমে মন্টু বোমা নিক্ষেপ করিয়াছে একথা এজাহারে বলেন নাই। জমি লইয়া বিরোধের কারনে আসামীরা পূর্বপরিকল্পিত ভাবে তাহাদের হত্যার উদ্দেশ্যে বাস ভবনে বোমা হামলা করিয়াছে, বোমার আঘাতে আহত এজাহারকারী ও তাহার দুই সহোদর ভাইয়ের রত্তু মাখা কাপড়, দারোগার কাছে দেয় নাই, ডাত্তুারী সনদ পত্র লইয়াছে, কিমও তাহা দারোগাকে দেয় নাই। নাসিমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করিয়া তাহার মা এজাহারকারী সহ অপর দুই ভাই ও সাক্ষী ওবায়দুলের নামে একটি হত্যা মামলা করিয়াছিল, অনুরতপ সাজশন তিনি অস্বীকার করিয়াছে।

২নং সাক্ষী, ফুল মিয়া পুলিশের সিপাহী, নিহত নাসিমার মরদেহ ময়না তদমেতর জন্য মর্গে লইয়া যায় এবং উহা সনাত্তু করেন, তিনি অফিসিয়াল সাক্ষী মাত্র।

৩নং সাক্ষী, সারোয়ার হোসেন এজাহারকারীর সহোদর ভাই, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্লাইট সার্জেন পদে চাকুরী করেন, ঘটনার দেখা সাক্ষী, আসামী মন্টুকে বোমা নিক্ষেপ করিতে দেখিয়াছে, ঐ বোমার আঘাতে তাহাদের কাজের মেয়ে নাসিমা নিহত হয় এবং তিনি নিজেও আহত হন, আসামী মনা, রহমান সহ অন্যান্য আসামীদের বোমা নিক্ষেপ করিতে দেখিয়াছে এবং তাহাদের বৈদ্যুতিক আলোতে চিনিয়াছে। এই সাক্ষী এজাহারকারীর বত্তুব্য সমর্থন করিয়া আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে। জেরায় বলেন, ১৫/১৬ জন আসামী এলাপাথাড়ী ভাবে বোমা মারে, নাসিমা রান্নাঘর হইতে বড় ঘরে যাইতেছিল, বিজলী বাতিতে আসামীদের চিনিয়াছে এবং মন্টু প্রথম বোমা মারে এসব কথা দারোগাকে বলিয়াছে।

৪নং সাক্ষী, মোঃ আসলাম হোসেন বিমান বাহিনীতে চাকুরী করেন, তিনি এজাহারকারীর সহোদর ভ্রাতা, ঘটনার সময় বাড়ীতে ছিলেন, দেখা সাক্ষী হিসাবে তিনি বলিয়াছে, নাসিমা রান্না ঘর হইতে আসিতেছিল, তার গায়ে বোমা লাগে, আহত হয় এবং পরে মারা যায়। ওমর ফারতক, সাবু, মনা, রহমান, কালাম, টিটো, লোকমান, বাবু, ইসমাইল, জাহাঙ্গীর ও চান্দু সহ ১৫/২০ জন, তাহারা ৭/৮ টি বোমা ফাটায়, তার মধ্যে ওমর ফারতককে বোমা নিক্ষেপ করিতে আমি নিজে দেখিয়াছি। তিনি নিহত নাসিমার সুরতহাল রিপোর্ট প্রদর্শনী-২ জব্দকৃত আলামত বসতু প্রদর্শনী-ক এবং খ সিরিজ এবং জব্দ তালিকা প্রদর্শনী-৩ তাহার স্বাক্ষর প্রদর্শনী-৩/১ হিসাবে প্রমান করিয়াছে। জেরায় বলেন, বাড়ীর মহিলারাও ঘটনা দেখিয়াছিল, তাহারা সহ তিন ভাই সাক্ষী দেই, তাহাদের বাড়ীর মেয়েদের পুলিশ সাক্ষী করিয়াছে কিনা জানে না। আসামী ওমর ফারতককে চিনতে পারিয়াছে, সে বোমা মারিয়াছে। তিনি পুনঃরায় বলেন, আসামী ওমর ফারতকদের সাথে তাহাদের দেওয়ানী মামলা চলিতেছে, সত্য নয় যে, ঐ শত্রততার কারনে নিজেরা বোমা ফাটিয়ে সত্য চাপা দেওয়া এবং জব্দ করার জন্য মিথ্যা মামলা করিয়াছে বা আজ যেসব আসামীর নাম বলিয়াছে তাদের নাম তদমতকালে পুলিশকে বলে নাই বা তাহার ভাইরাই নাসিমাকে খুন করিয়াছে। সেকারনে নাসিমার মাকে তাহারা জোত জমির বিনিময়ে মামলা মিমাংসা করিয়াছে, এই সকল প্রশণ অস্বীকার করিয়াছে।

৫ নং সাক্ষী, মোঃ সামসুল হক পাটোয়ারী, প্রতিবেশী, তিনি বিমান বাহিনীতে চাকুরি করেন। বোমার শব্দ ও হৈ চৈ শুনিয়া ঘটনাসহলে গিয়া দেখে নাসিমা মৃত অবসহায় উঠানে পড়িয়া আছে। ঘটনাসহলে বোমা বিষ্ফোরনের চিহু দেখিয়াছে। তিনি নিহত নাসিমার শরীরে কয়েকটি বোমার জখম দেখিয়াছেন। তিনি বলিয়াছে- “I heard that these persons on the dock had exploded the bombs, there by causing death of Nasima but I don’t know why they did so.এই সাক্ষী ঘটনার অব্যবহিত পরে ঘটনাসহলে যাইয়া যাহা দেখিয়াছে এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা আদালতে বর্ণনা করিয়াছে এবং আদালতের কাঠগড়ায় আসামীদের সনাত্তু করিয়াছে। তিনি জেরায় বলেন, “At the place of incident I did not hear the name of any accused after the case being started I came to know that these persons on the dock have been made the same statement to the I.O. It was perhaps on the day. I can not remember anothers.”

৬নং সাক্ষী ওবায়দুল হক ওরফে সাকিল, এজাহারকারীর প্রতিবেশী ও একজন দেখা সাক্ষী, তিনি শোরগোল শুনিয়া এগিয়ে যায়, তিনি আসামী মন্টু, মনা, টিটো, কালাম, শরিফ সহ ১২/১৪ জনকে দেখিয়াছে।মন্টু বলল বোমা দে, বোমা দে, তারপর মন্টু ও কয়েক জনকে বোমা নিক্ষেপ করতে দেখি, মন্টুকে বোমা নিক্ষেপ করতে নিজে দেখিছি। সে আনোয়ারের উঠানে বোমা মারে। আসামীরা চলিয়া যাওয়ার পর বাড়ীর মধ্যে যাইয়া দেখে কাজের মেয়ে বোমার আঘাতে ছটফট করিতে করিতে ঘটনাসহলেই মারা যায়।  এই সাক্ষীর উপসিহতিতে নাসিমার বিচ্ছিন্ন হওয়া চুল, বোমার কৌটা, জালের কাঠি ইত্যাদি আলামত জব্দ করিলে তিনি জব্দ তালিকায় স্বাক্ষর করিয়াছে, যাহা  আদালতে  প্রদর্শীত  হইয়াছে।  জেরায় বলেন, আসামী মন্টু সহ অন্যদের বিদ্যুতের আলোতে দেখিয়াছে এবং বোমার আঘাতে নাসিমা, আনোয়ার, আসলাম আহত হয়। তিনি একটি অসএ মামলায় সাজা প্রাপ্ত আসামী, জনৈক চান্দুকে ছুরি মারা কেসের আসামী, নাসিমার মায়ের দায়ের কৃত হত্যা মামলায় আসামী ছিলেন, আপীলকারী পক্ষের উপরোত্তু সাজেশন তিনি সত্য নয় বলিয়া অস্বীকার করিয়াছে। তিনি ১,৩ ও ৪ নং সাক্ষীকে সমর্থন করিয়া আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে।

৭নং সাক্ষী মোঃ হেমায়েত উদ্দিন প্রতিবেশী, বোমার শব্দ শুনিয়া তিনি ঘটনাসহলে যাইয়া দেখে নাসিমা মারা গিয়াছে এবং তাহার ঘাড়ের পিছনে এবং মাথার পিছনে বোমার আঘাতে উড়িয়া গিয়াছে। তিনি ঘটনাসহলে যাওয়ার সময় আসামী রহমান, মোত্তুার হোসেনকে চলিয়া যাইতে দেখিয়াছে। তিনি এজাহারকারী আনোয়ারের কাছে মন্টু, রহমান, মোত্তুার, কালাম, টিটো, চান্দু ও ইসমাইলের নাম শুনিয়াছে। জেরায় বলেন, শুনিয়াছি যে, মৃত নাসিমার মা বাদী হইয়া এই ঘটনার পর আমার এবং আমার পুত্রদের বিরতদ্ধে মোকর্দ্দমা করিয়াছিল।

৮নং সাক্ষী ডাঃ মোমতাজুল হক তিনি নিহত নাসিমার ময়না তদমত করিয়া রিপোর্ট দিয়াছে। ময়না তদমতকালে নিহতের শরীরে আঘাতের চিহু বর্ণনা করিয়াছে এবং মৃত্যুর কারন সম্পর্কে নিমেণাত্তু মতামত দিয়াছে- “Death in my opinion is due to intracranial hemorrhage and shock, resulting from above mentioned injury which is anty mortem and homicidal in nature.”  তিনি আদালতে ময়না তদমত রিপোর্ট প্রদর্শনী-৪ এবং তাহার স্বাক্ষর প্রদর্শনী ৪/১ হিসাবে প্রমান করিয়াছে। জেরায় বলিয়াছে, আমি এইজ অব ইনজুরি উল্লেখ করি নাই। আমি মোদির জুরিস প্রতডেন্স অনুস্বরন করি, ফরমে নাই তাই লিখি নাই, আমি মৃতার শরীরে কোন পোড়া দাগ উল্লেখ করি নাই। আমার রিপোর্টে বোমার কোন উল্লেখ নাই।

৯নং সাক্ষী মোঃ আলাউদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক, তিনি মামলাটি সরেজমিনে তদমত করিয়া প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় দন্ড বিধি ৩০২/৩৪ ধারায় ৫ জন আসামীর বিরতদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করিয়াছে। আদালতে এজাহার, তাহার স্বাক্ষর প্রদর্শনী-৫ এবং ৫/১, মানচিত্র ও সূচীপত্র প্রদর্শনী-৬,৭ তাহার স্বাক্ষর প্রদর্শনী-৬/১, ৭/১ জব্দ তালিকা প্রদর্শনী ৩/৩, সুরতহাল রিপোর্টে তাহার স্বাক্ষর ২/১ হিসাবে সনাত্তু ও প্রমান করিয়াছে, এজাহার নামীয় অন্যান্য আসামীদের বিরতদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাহাদের মামলায় দায় হইতে অব্যাহতি প্রদান করিয়াছে।

উপরোত্তু সাক্ষীগনকে রাষ্ট্র পক্ষ বিচারিক আদালতে উপসহাপন ও পরীক্ষা করিয়াছে।

পরীক্ষিত সাক্ষীদের প্রদত্ত সাক্ষ্য পর্যালোচনায় দেখা যায় ১নং সাক্ষী এজাহারকারী, তিনি এজাহার সমর্থন করিয়া আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে এবং আসামী পক্ষের দেওয়া সাজেশন অস্বীকার করিয়াছে। ২নং সাক্ষী পুলিশের সিপাহী, মৃতা নাসিমার লাশ ময়না তদমেতর সময় সনাত্তু করিয়াছে। ৩নং সাক্ষী মোঃ সারোয়ার এবং ৪নং সাক্ষী আসলাম হোসেন তাহারা এই মামলার ভিকটিম এবং দেখা সাক্ষী হিসাবে ১নং সাক্ষীকে সমর্থন করিয়া সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে। ৫নং সাক্ষী সামসুল হক পাটোয়ারী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অডিটর, মামলার পারিপার্শ্বিকতা সমর্থন করিয়া আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে। ৬নং সাক্ষী ওবায়দুল হক সাকিল প্রতিবেশী ও দেখা সাক্ষী,  আপীলকারী মন্টু সহ অন্যান্যা আসামীদের বিদ্যুতের আলোতে বোমা নিক্ষেপ করিতে ও নাসিমাকে বোমার আঘাতে ছটফট করিয়া মৃত্যুবরন করিতে দেখিয়াছে এবং ১,৩ ও ৪নং সাক্ষীকে জোরালোভাবে সমর্থন করিয়া সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে এবং আসামী পক্ষে দেয়া সাজেশন অস্বীকার করিয়াছে। ৭নং সাক্ষী মোঃ হেমায়েত উদ্দিন প্রতিবেশী, বোমার আওয়াজ শুনিয়া ঘটনাসহলে যান এবং আসামীদের দেখিয়াছে ও ঘটনা শুনিয়াছে। ৮নং সাক্ষী ডাঃ মোমতাজুল হক, নিহত নাসিমার ময়না তদমত সম্পন্ন করিয়া রিপোর্ট প্রদান করিয়াছে এবং উত্তু রিপোর্ট আদালতে সনাত্তু ও প্রমান করিয়াছে। জেরায়, কোন ধরনের অসেএর আঘাতে নাসিমা নিহত হইয়াছে তাহা উল্লেখ করে নাই। ৯নং সাক্ষী মোঃ আলাউদ্দিন তদমতকারী কর্মকর্তা হিসেবে তাহার তদমত কার্য সঠিক মর্মে সাক্ষ্য প্রদান এবং জেরায় দেওয়া সাজেশন অস্বীকার করিয়াছে।

উপরোত্তু আলোচনায় পরিলক্ষিত হয় যে, দন্ডিত আপীলকারী সহ অন্যান্য আসামীগন একই দলের সদস্য। এজাহারকারীর সঙ্গে পূর্ব হইতে সহায় সম্পত্তি লইয়া বিভিন্ন মামলা-মোকর্দ্দমা বিদ্যমান থাকায় পূর্ব শত্রততার আত্রেুাশে সুপরিকল্পিত ভাবে মারাত্মক অসএ-সসএ ও বোমা লইয়া স্বদলবলে এজাহারকারীর বাড়ীতে আত্রুমন চালাইয়াছে। আপীলকারীর হাতে থাকা বোমা নিক্ষেপ করিয়া এজাহারকারীর বাড়ীর গৃহপরিচারিকা নাসিমাকে হত্যা এবং এজাহারকারী ও তাহার অপর দুই সহোদর ভাইকে আহত করিয়াছে। ১,৩,৪ ও ৬ নং সাক্ষী বৈদ্যুতিক আলোয় ঘটনা স্বচক্ষে দেখিয়াছে এবং আদালতে একে অপরকে জোরালো ভাবে সমর্থন করিয়া সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে। প্রতিবেশী সাক্ষীগন ঘটনার অব্যবহিত পরেই পূর্বাপর ঘটনাসহলে আসিয়াছে এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বর্ণনা করিয়াছে।

নিমণ আদালতে নথি দৃষ্টে দেখা যায়, এজাহারকারী তার বাড়ীতে ঘটনা সংঘটিত হওয়ার মাত্র ২ ঘন্টা ১৫ মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ঠ থানায় মামলা দায়ের করিয়াছে। এজাহারকারী ও তাহার ভাই বোমার আঘাতে আহত হইয়াছে এবং তাহার বাড়ীর গৃহপরিচারিকা নিহত হইয়াছে, তিনি নিজ চোখে যাহা দেখিয়াছে, এজাহারের বর্ণনায় তাহারই প্রতিফলন ঘটিয়াছে।

বিজ্ঞ অতিরিত্তু দায়রা জজ, ৩য় আদালত, যশোর কর্তৃক প্রদত্ত গত ইং ১৭/০৫/১৯৯৯ তারিখের রায় পর্যালোচনা করিয়া দেখা যায় ১, ৩, ৪ ও ৬ নং সাক্ষীগন পরষ্পর একে অপরকে সমর্থন করিয়া রাষ্ট্র পক্ষের মামলা প্রমান করিয়াছে। বিশেষত দন্ডিত আপীলকারী সহ তাহার সহযোগী আসামীরা নাসিমা হত্যাকান্ডে সহযোগীতা করার বিষয় রায়ে পরিষ্ফুটিত হইয়াছে, কিমও তিনি সহযোগী আসামীদের অভিযোগের দায় হইতে অব্যহতি প্রদান করিয়া একমাত্র আপীলকারী মন্টুকে দন্ড ও সাজা প্রদান করিয়াছে বিষয়টি সঠিক ভাবে অনুধাবনের জন্য  আদালতের প্রদত্ত রায়ের মতামত (observation) নিমেণ উদ্বৃত হইল; 
 
ঘটনার সময় পি,ডব্লিউ-১ বাড়ীতে ছিল। পি,ডব্লিউ-৩ এবং পি,ডব্লিউ-৪ বিমান বাহিননীতে চাকুরীরত অবসহায় বাড়ীতে ছিল বলিয়া প্রতিয়মান হইতেছে। উত্তু সাক্ষীদের ঘটনার সময় বাড়ীতে উপসিহতি সম্বন্ধে বিন্দুমাত্র সন্দেহ আসামীপক্ষ সৃষ্টি করিতে পারে নাই। এ মোকর্দ্দমায় ঘটনার বিষয় পূর্বে অনুমান করিয়া অন্য সাক্ষী ঘটনাসহলে উপসিহত থাকিবে ইহা অবাসতব ধারনা। যাহারা ঘটনাসহলের বাড়ীতে ছিল তাহারা ঘটনা দেখিবে ইহাই স্বাভাবিক। পি,ডব্লিউ-১, পি,ডব্লিউ-৩ এবং পি,ডব্লিউ-৪ ঘটনাসহলের বাড়ীতে উপসিহত থাকিয়া বৈদ্যুতিক বাতিতে আসামী সনাত্তু করন manner of occurrence সম্বন্ধে যে ভাষন দিয়াছে তাহা বিশ্বাসযোগ্য। পি,ডব্লিউ-১, পি,ডব্লিউ-৩ এবং পি,ডব্লিউ-৪ পরস্পর ভ্রাতা বলিয়া তাহাদের সাক্ষ্যকে খারিজ করিয়া দেওয়া যাইবে না।
 
বিজ্ঞ বিচারক এরতপ ক্ষেত্রে পরীক্ষিত সাক্ষীগনকে বিশ্বাস করার স্বপক্ষে AIR ১৯৮৫ ১৩৮৪ পাতায় প্রকাশিত State of U.P. -vs- Ballabh Das and others মামলার নজির উল্লেখ করিয়াছে।
 
বিজ্ঞ অতিরিত্তু দায়রা জজ-৩য় আদালত, যশোর সাক্ষীগনের প্রদত্ত সাক্ষ্য বিশ্বাস করিয়াছে কিমও অভিযুত্তু অন্যান্য আসামীগন ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪ ধারার দায় হইতে অব্যহতি দিয়া একমাত্র আপীলকারীকে দন্ড বিধি ৩০৪ (প্রথম ভাগ) ধারায় দন্ড ও শাসিত প্রদানের ক্ষেত্রে তাহার রায়ে দেওয়া মতামতের (observation) সহিত সামঞ্জস্য পূর্ন নয়। এই মামলায় বিজ্ঞ বিচারক কেবল মাত্র পরীক্ষিত সাক্ষীদের পরষ্পর সমর্থন যোগ্য সাক্ষী (Corroborative evidence) মূল্যায়ন করিয়া ভাবাবেগ দ্বারা পরিচালিত হইয়াছে। যাহাতে ন্যায় বিচার বিঘিণত হওয়াই স্বাভাবিক।  মামলার প্রাসঙ্গিকতার কারনে দন্ড বিধির ৩৪ ধারা নিমেণ উদ্বৃত হইল;
 
৩৪ ধারাঃ যে ক্ষেত্রে কতিপয় ব্যত্তিু কর্তৃক সকলের একই অভিপ্রায় পুরনকল্পে কোন অপরাধ মূলক কার্য সম্পাদিত হয়, সেই ক্ষেত্রে অনুরতপ ব্যত্তিুগনের প্রত্যেকেই উত্তু কার্যের জন্য এরতপ দায়ী হইবেন যেন উত্তু কার্য উত্তু ব্যত্তিু কর্তৃক সম্পাদিত হইয়াছিল।
 
একই অভিপ্রায় পুরনকল্পে একাধিক ব্যত্তিু যখন কোন একটা অপরাধমূলক কার্য করেন, তখন তাহাদের প্রত্যেক ব্যত্তিু সেই অপরাধের জন্য দায়ী হন, ইহাই দন্ড বিধির ৩৪ ধারা প্রতিপাদ্য বিষয়। নিমণ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তর্কিত রায়ে আসামী মনা, আব্দুর রহমান এবং ওমর ফারতক ওরফে মন্টু সম্পর্কে বলিয়াছেন;
 
এই মোকর্দ্দমায় সাক্ষীরা আসামী কবির হোসেন এবং মোত্তুার হোসেনকে জড়িত করিয়া সাক্ষ্য প্রদান করে নাই। তবে পি,ডব্লিউ-১, পি,ডব্লিউ-৩, পি,ডব্লিউ-৪ এবং পি,ডব্লিউ-৬ এর সাক্ষ্যে উল্লেখ করা হইয়াছে আসামী মনা, রহমান ঘটনাসহলে বোমা নিক্ষেপ করিয়াছিল। কিমও সাক্ষীরা উল্লেখ করে নাই যে, আসামী মনা এবং আঃ রহমানের নিক্ষিপ্ত বোমায় কেউ আহত বা জখম হইয়াছে। এমতাবসহায় আসামী মনা, কবির হোসেন, আঃ রহমান এবং মোত্তুার হোসেনকে নাসিমা হত্যার জন্য দায়ী করা যায় না।
প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য পর্যালোচনা করিয়া প্রমানিত হয় না যে, সকল আসামীরা একই অভিপ্রায় পুরন কল্পে অর্থাৎ নাসিমাকে হত্যার জন্য ঘটনাসহলে বোমা বিষ্ফোরন করিয়াছিল তবে আসামী পক্ষের সাথে এজাহারকারীর পূর্ব শত্রততা ছিল। আসামী গনের অভিপ্রায় ছিল বোমা বিষ্ফোরনের মাধ্যমে আতংক সৃষ্টি করিয়া এজাহারকারীকে একটি শিক্ষা দেওয়া, উপরোত্তু কারনে দন্ড বিধির ৩৪ ধারার বিধান মোতাবেক আসামী মনা, কবির হোসেন, আঃ রহমান এবং মোত্তুার হোসেনকে এই মোকর্দ্দমার ঘটনা সংঙ্গে সম্পৃত্তু করা যায় না।
আসামী ওমর ফারতক ওরফে মন্টু সহ যাহারা ঘটনাসহলে বোমা বিষ্ফোরনের ঘটনা ঘটাইয়াছে তাহাদের সকলেই জানে যে, বোমা বিষ্ফোরনের ফলে যে কোন লোক মারা যাইতে পারে। এইরতপ বিশ্বাস থাকা সত্বেও আসামী ওমর ফারতক ওরফে মন্টু ঘটনাসহলে বোমার বিষ্ফোরন ঘটাইয়াছিল। নিহত নাসিমাকে হত্যার কোন পূর্ব পরিকল্পনা বা উদ্দেশ্য আসামী ওমর ফারতক ওরফে মন্টুর ছিল না। বিধায় তাহাকে দন্ড বিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যসত করা যায় না। তবে এই আসামী পূর্ব জ্ঞান থাকা সত্বেও ঘটনাসহলে বোমা বিষ্ফোরন ঘটাইয়াছে যাহার ফলে জখম প্রাপ্ত হইয়া নাসিমার অকাল মৃত্যু ঘটিয়াছে। এমতাবসহায় এই আসামী দন্ড বিধির ৩০৪ (প্রথম খন্ড) ধারার অপরাধ করিয়াছে মর্মে প্রমানিত হইতেছে।
 
বিজ্ঞ বিচারকের উপরোত্তু মতামতের প্রেক্ষিতে এবং মামলার প্রাসঙ্গিকতার কারনে দন্ড বিধির ৩০০, ৩০৪ (প্রথম ভাগ) নিমেণ উদ্বৃত করা হইল;
 
৩০০।  প্রথমঃ অতঃপর ব্যতিত্রুামত ক্ষেত্রসমূহ ব্যতিত দন্ডার্হ নরহত্যা খুন বলিয়া গন্য হইবে, যদি যে কার্যের ফলে মৃত্যু সংঘটিত হয় সেই কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের উদ্দেশ্যেই সম্পাদিত হয়, অথবা
দ্বিতীয়তঃ যদি ইহা এইরতপ দৈহিক জখম করার উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হয়, যাহা যে ব্যত্তিুর ক্ষতি সাধন করা হয় তাহার মৃত্যু ঘটাইতে পারে বলিয়া অপরাধকারীর জানা থাকে, অথবা
তৃতীয়তঃ যদি কোন ব্যত্তিুকে দৈহিক জখম করার উদ্দেশ্যে ইহা সম্পাদিত হয় এবং অভিষ্ট দৈহিক জখমটি প্রাকৃতিক স্বাভাবিক অবসহায় অনুরতপ মৃত্যু ঘটাইবার জন্য যথেষ্ট হয়, অথবা
চতুর্থতঃ যদি উত্তু কাযৃ সম্পাদনকারী ব্যত্তিু অবগত থাকে যে, ইহা এত আসন্ন বিপদজ্জনক যে, ইহা খুব সম্ভবতঃ মৃত্যু ঘটাইবে অথবা এইরতপ দৈহিক জখম ঘটাইবে যাহা মৃত্যু ঘটাইতে পারে এবং মৃত্যু সংঘটনের বা পুর্বোত্তু জখম ঘটাইবার ঝুঁকি নেওয়ার অজুহাতে ব্যতিরেকেই অনুরতপ কার্য সম্পাদন করে। 
৩০৪।    যে ব্যত্তিু খুন বলিয়া গণ্য নহে এইরতপ দন্ডার্হ নরহত্যা অনুষ্ঠান করে, সেই ব্যত্তিু কার্যের সাহায্যে মৃত্যু সংঘটিত হয় তাহা মৃত্যু ঘটাইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে এমন গুরততর আঘাত প্রদানের উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হইলে যাবজ্জীবন বা যে কোন বর্ননার কারাদন্ডে যাহার মেয়াদ দশ বৎসর পর্যমত হইতে পারে এবং তদুপরি অর্থদন্ডে দন্ডনীয় হইবে।
অথবা...................................................................................................................................................................................................................
 
পরীক্ষিত সাক্ষীগন আসামীদের নাম এবং তাহাদের বোমাবাজী ও সমএাসী কর্মকান্ডে বর্ণনা করিয়া আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে, যাহা বিজ্ঞ বিচারক তাহার রায়ে আমলে লইয়াছে, অনুরতপ অবসহায় বিচারিক আদালতের গঠিত চার্জ ও সাক্ষ্য অনুযায়ী অভিযুত্তুদের পূর্ব পরিকল্পনা প্রমানিত হয় নাই এরতপ মমতব্য গ্রহন যোগ্য নয়। দন্ড বিধির ৩৪ ধারার অভিযোগ সহযোগী আসামীদের বিরতদ্ধে সুস্পষ্টত তাহার দৃশ্যপটে আসা সত্বেও বিজ্ঞ বিচারক তাহাদের অভিযোগের দায় হইতে অব্যাহতি প্রদান করিয়া কেবল মাত্র আপীলকারীকে দন্ড বিধির ৩০৪-এ ধারায় দন্ড ও সাজা প্রদান করিয়াছে তাহা কোনভাবেই যৌত্তিুক ব্যাখ্যা বলিয়া প্রতিয়মান হয় না। এজাহারের বত্তুব্যের সমর্থনে পরীক্ষিত সাক্ষীগন তাহাদের সাক্ষ্যে স্পষ্টতই বলিয়াছে জমি-জমা লইয়া পূর্ব বিরোধের আত্রেুাশে পরিকল্পিত ভাবে এজাহারকারীর বাড়ীতে আসামীগন বোমা হামলা চালিয়ে নাসিমাকে হত্যা করিয়াছে এবং এজাহারকারী সহ অন্য দুই জনকে আহত করিয়াছে, যাহা সাক্ষীগন স্বচক্ষে দেখিয়াছে এবং আসামীগনকে বিদ্যুতের আলোতে চিনিয়াছে।

তর্কিত রায়ে যদি কেবল মাত্র ঘটনা ও পরীক্ষিত সাক্ষী দ্বারা মামলাটি সন্দেহাতীত ভাবে  প্রমানিত হয় সে ক্ষেত্রে দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় দন্ড ও শাসিত প্রদানের বিকল্প হিসাবে ৩০৪ ধারার (প্রথম ভাগ) এর বিধান মোতাবেক দন্ড ও ১০ বৎসর সাজা দেওয়ার স্বপক্ষে দেওয়া যুত্তিু আইনানুগ ভাবে গ্রহনযোগ্য কিনা, তাহা বিবেচনার দাবী রাখে।

জনাব মোহাম্মদ আলী খান, বিজ্ঞ আইনজীবি এই আদালতে আপীলকারীর পক্ষে যে সকল যুত্তিু ও নজির উপসহাপন করিয়াছে তাহা নিমেণ পর্যায়ত্রুমে আলোচনা করা হইল;

তিনি প্রশণ তুলিয়াছে যে, এজাহার নামীয় ১৬ জন আসামীর মধ্যে পুলিশ ৫ জনের বিরতদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করিয়াছে। অবশিষ্ট ১১ জনকে মামলার দায় হইতে অব্যহতি প্রদান করিলে এজাহারকারী অনুরতপ তদমেতর বিরতদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে কোন নারাজি আবেদন করেন নাই, পক্ষামতরে সাক্ষীগন আদালতে সাক্ষ্য প্রদানের সময় অভিযোগপত্রে উল্লেখিত (Sent up) আসামী মন্টু, মনা ও আব্দুর রহমান এবং অভিযোগপত্রে নাম নাই এরতপ (Not Sent up in charge sheet) আসামী কালাম, টিটো, লোকমান, বাবু, চান্দু ও ইসমাইলের বিরতদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে, তর্কিত রায়ে বিজ্ঞ বিচারক উহা আমলে না লইয়া বিচারক সুলভ মনোভাব প্রদর্শন না করিয়া একমাত্র আপীলকারীকে দন্ড ও সাজা প্রদান করিয়াছে যাহার প্রেক্ষিতে তর্কিত রায়টি প্রশণবিদ্ধ হইয়াছে।  সেকারন আপীলকারীর বিজ্ঞ কৌশুলী ইহাকে মিথ্যা ও ষড়মএমূলক মামলা হিসাবে দাবী করিয়াছে। তিনি তাহার দাবীর স্বপক্ষে কোন নজির বা আইন উপসহাপন করে নাই। তথাপিও বিজ্ঞ বিচারকের তর্কিত রায়ে উপরোত্তু বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামত দেওয়া অাবশ্যকীয় ছিল, যাহা তিনি না করিয়া তথ্যগত ও আইনগত ভূল করিয়াছে।
পূর্ব শত্রততার জের হিসাবে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে এজাহারকারী ও অন্যান্যরা নাসিমাকে হত্যা করিয়া তাহার দায় আপীলকারীর স্কন্ধে চাপানোর জন্য মিথ্যা মামলা করিয়াছে, এ প্রসঙ্গে তিনি সাক্ষীগনের জেরায় দেওয়া সাজেশন অত্র আদালতের দৃষ্টি আকর্ষন করিয়াছে। কিমও অনুরতপ সাজেশন সাক্ষীগন সত্য নয় বলিয়া অস্বীকার করিয়াছে, অন্যদিকে আসামী পক্ষের দেয়া সাজেশন প্রমানের জন্য দন্ডিত আপীলকারী পক্ষ হইতে নিহত নাসিমার মায়ের দায়েরকৃত কথিত হত্যা  মামলার  কোন  সহিমোহরী  নকল  (Certified Copy) বা সাফাই সাক্ষী  (Defence Witness)  বিচারিক আদালতে  উপসহাপন  করে  নাই, সেকারন  আপীলকারী  পক্ষের  বিজ্ঞ কৌশুলীর উপরোত্তু  বত্তুব্য বিবেচনায় লওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত কোন ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। 

বিজ্ঞ আইনজীবি সাক্ষীগনের গ্রহন যোগ্যতা নিয়ে প্রশণ তুলিয়াছে যে, এজাহারকারী সহ ৩ জন সাক্ষী সহোদর ভ্রাতা, অন্যান্যরা দলভুত্তু লোক, তাই তাহাদের সাক্ষ্য বিশ্বাস করা যায় না। পরিবারের কোন মহিলা বা নিরপেক্ষ প্রতিবেশী বা নিহত নাসিমার পিতা-মাতা এই মামলায় সাক্ষী হিসাবে পরীক্ষিত না হওয়ায় মামলাটি সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হয় নাই বলিয়া তিনি দাবী করেন।

একমাত্র আত্মীয়তা বা এক গোত্রীয়তার কারনে ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষীকে বিশ্বাস করা যাবে না, এইরতপ বত্তুব্য আইন সঙ্গত নয় ২ ও ৪নং সাক্ষী সহোদর ভ্রাতা, ঘটনাসহলটি এজাহারকারীর বসত বাড়ী, তাহারা সকলেই ঘটনা প্রত্যক্ষ্য করিয়াছে এবং বোমার আঘাতে আহত হইয়াছে বলিয়া দাবী করিয়াছে, অনুরতপ অবসহায় তাহারা মামলার সাক্ষী হইবে ইহাই স্বাভাবিক। ঘটনার অব্যবহিত পর প্রতিবেশীদের মধ্যে যাহারা ঘটনাসহলে আসিয়াছে এবং ঘটনা দেখিয়াছে, তাহারাও মামলার প্রয়োজনীয় সাক্ষী হিসাবে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে। এলাকার সকল প্রতিবেশীকে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করিতে হইবে এরতপ বত্তুব্যের আইনানুগ কোন ভিত্তি নাই, সাক্ষীগনের পরষ্পর সমর্থন যোগ্য সাক্ষ্য (Corroborative evidence) আদালতের নিকট বিশ্বাসযোগ্য মনে হইলে সে ক্ষেত্রে সাক্ষীর সংখ্যাও বিবেচ্য বিষয় নহে, ইহাই সাক্ষ্য আইনের প্রতিপাদ্য বিষয়।
নিহত নাসিমার পিতা-মাতা ঘটনাসহলে ছিল না, পরবর্তীকালে কন্যার মৃত্যুর সংবাদ শুনিয়াছে, মামলা প্রমানের ক্ষেত্রে তাহাদের সাক্ষ্য প্রদান অত্যাবশ্যকীয় নয়, তবে পিতা-মাতা হিসাবে তদমতকালে পুলিশ তাহাদের নাম সাক্ষীর তালিকায় সন্নিবেশীত করিয়া আদালতে সাক্ষী হিসাবে উপসহাপন করিলে অনুরতপ প্রশণ উথুাপিত হইত না। এইরতপ ক্ষেত্রে মামলার কোন ক্ষতি হইবে কিনা, বিষয়টি আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির জন্য প্রাসঙ্গিক কোন আইন বা নজির আপীলকারী পক্ষ হইতে আদালতের সামনে উপসহাপন করা হয় নাই। কেবলমাত্র আত্মীয়তা এবং ঘটনার অপ্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসাবে নাসিমার পিতা-মাতা সাক্ষ্য প্রদান না করায় মামলাটি সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হয় নাই এই কথা বলা যৌত্তিুক নহে। সেকারন বিজ্ঞ কৌশুলীর অনুরতপ বত্তুব্য বিবেচনা লওয়ার দাবী রাখে না।

এ প্রসঙ্গে In the case of Yogeshwar Gope -Vs-The State reported in 58 DLR (AD) 73  প্রাসঙ্গিক অংশ নিমেণ উদ্বৃত করা হইল;
 
“Only because of relationship of witnesses evidence cannot thrown away unless the evidence is found to be untrue or tainted by motive.”
 
এজাহারকারী সাক্ষ্য প্রদানকালে বলিয়াছে- আসামী মন্টু প্রথমে যে বোমা নিক্ষেপ করে, উহাতে তাহার বাড়ীর কাজের মেয়ে নাসিমা তাহার মাথার পিছনে আঘাত পায় এবং হাতে যখম হয়। উত্তু বোমার আঘাতে নাসিমা ঘটনাসহলেই মারা যায়। যাহা তিনি এজাহারে বলে নাই, ইহাকে Subsequent embellishement or departure from FIR বলিয়া আপীলকারী বিজ্ঞ কৌশূলী উল্লেখ করিয়া নিমেণাত্তু নজির উপসহাপন করিয়াছে;
 
In the case of Harun Sheikh @ Harunur Rashid and another Vs. The State reported in 8 BLD 425 (HCD) 1988 প্রাসঙ্গিক অংশ নিমেণ উদ্বৃত্ত করা হইল;
 
“The First Information Report, Ext. shows that the informant did not state anything in that report about recognition of the assailants by P.Ws.2-5 P.W.1, the informant however stated before the court that P.Ws.2-5 also recognised the assailants. The learned Advocate for the appellants submits that the subsequent story about recognition the assailants by P.Ws.2-5 was an embellishment. On this point he placed reliance on The State Vs. Basirullah reported in 16 D.L.R. 189 and Mafu alias Mafizuddin Gazi Vs. The State reported in 31 D.L.R. 16 in the later case it was held that the First Information Report being the earliest record of a case it has not musch importance. It enables the court to see what the prosecution case was when it was started and to check up any subsequent embellishment or any departure therefrom as the case preceeds through different stages. In the case of the State Vs. Basirullah the following observation was made:
“It is true that a first information report cannot be used to contracdict any witness other then the informant but the court can and should take notice of the earlies recorded statement with regard to the prosecution case in the context of the circumstances which made this particular report of vital importance in the assessment of prosecution evidence.” It was further observed: “The Court is entitled to note the conflict between the first recorded version of the prosecution case and the story that is made out in course of the trial. A comparison between two of such versions of the case is not only permissible, but imperative in the context of the circumstances set out above.”
 
আপীলকারীর বিজ্ঞ কৌশুলী রাষ্ট্র পক্ষের ১ নং সাক্ষী তাহারা সাক্ষ্যে এজাহারের (FIR) বর্ণনা হইতে সরিয়া আসার প্রশেণ নিমেণাত্তু নজির উপসহাপন করিয়াছেন, যাহা In the case of Md. Isahaque Ali and others -Vs- The State reported in 16 BLT 69 (HCD) 2008 প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্বৃত হইল;
 
“Here the FIR case is that the informant Mozammel Hoque and other witnesses namely Ibrahim, Alauddin, Erfan and Mojibur saw that the accused persons caused injuries in the person of the victim Aftabuddin but in the trial they flatly denied that they did not see the occurrence. Here we find serious contradictions and inconsist-encies between the contents of FIR and evidence on record
It is true that FIR is not a substantive piece of evidence but as the earliest recorded version, the same may be looked into for the purpose of comparing the same with the statement made. Subsequently during trial by prosecution witnesses, any deviation from the FIR story makes the prosecution case boubtful casting serious doubt as to the credibility of prosecution witnesses. Here in this case, we find total departure of the FIR case from the evidence on record and thus has made the prosecution case shaky.”
 
উপরোত্তু নজির ২টি পর্যালোচনায় দেখা যায় উহার ঘটনা ও পারিপার্শ্বিকতা এই মামলার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন নয়। উল্লেখিত 16 BLT 69 (HCD) এর মতামত, “We find total departure of the FIR case from the evidence on record and thus has made the prosecution case shaky.” তর্কিত মামলার এজাহারের বত্তুব্যকে রাষ্ট্র পক্ষের ১, ৩, ৪ ও ৬নং সাক্ষীর প্রদত্ত সাক্ষ্য পরষ্পর সমর্থন করিয়া মামলা (corroborative evidence) প্রমান করিয়াছেন। এই ক্ষেত্রে ১নং সাক্ষীর বত্তুব্যকে এজাহার হইতে সরিয়া আসা (Total departure of the FIR) বলা বাসতব সঙ্গত নয়।
 
জনাব মোহাম্মদ আলী খান আরো প্রশণ তুলিয়াছে যে, বিজ্ঞ বিচারক কর্তৃক দন্ডিত আপীলকারীকে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় গ্রহনকৃত পরীক্ষা যথাযথ আইনী প্রত্রিুয়ায় সম্পন্ন করা হয় নাই। কেবল মাত্র দায়সারা ভাবে ইহা সম্পন্ন করিয়াছে, উত্তু বর্ণনার শেষাংশের প্রশেণ দন্ডিত আপীলকারী ওমর ফারতক ওরফে মন্টু নিজেকে নির্দোষ দাবী করিয়াছে, সাফাই সাক্ষী দিবে না এবং অন্য কোন কিছু বলিবে না মর্মে আদালতকে জানাইয়াছে তাহাও যথাযথ নয়।
 
তিনি তাহার বত্তুব্যের সমর্থনে কয়েকটি নজির উপসহাপন করিয়াছে, যাহা নিমেণ আলোচিত হইলঃ
 
প্রথমত; In the case of State Vs. Monu Meah reported in 6 BLC 402 (HCD) 2001 প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্বৃত হইল;
“Referring to the statements as recorded under section 342 of the Code of Criminal Procedure the learned Advocate for the appellants has referred series of decisions to show that the statement have been made without the minimum compliance of section 342 of the Code of Criminal Procedure as neither substance of the evidence was put to the accused nor the incriminating material appearing were brought to their notices and therefore they have been seriously prejudiced in their defence. In this connection the learned Advocate for the appellants has referred to the case of State vs Badshah Mollah reported in 41 DLR 11 and the case of Mizazul Islam alias Dablu vs The State reported in 41 DLR (AD) 157. In the later case sandal which was the incriminating circumstance sought to connect the accused but since attention of the accused was not drawn to the sandal during his examination under section 342 of the Code of Criminal Procedure it was left out of consideration. Incriminating evidence or circumstances sought to be proved by the prosecution must be put to the accused during examination under section 342 of the Code of Criminal Procedure. In such view of the matter we hold that the examination of the appellants under section 342 of the Code of Criminal Procedure have been perfunctory and this has caused serious prejudice to the accused persons causing mis-carriage of  justice.”
 
দ্বিতীয়ত; In the case of Nurul Islam alias Nur Islam Vs. The State reported in 18 BLD 695 (HCD) 1998 প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্বৃত হইল;
“Let us now come to consider the soundness of the second branch of contention which is with respect to the examination of the accused-appellant under section 342 of the Code of Criminal Procedure. The fundamental principles underlying in section 342 of the Code of Criminal Procedure is that the accused should be afforded a full and fair opportunity for explaining the circumstances and the evidence against him. It is the duty of the court to put question to the accused properly and fairly bringing to his mind in clear and simple language the exact case he has to meet in each material point. Section 342 provides that attention of the accused persons be drawn to all incriminating evidence and circumst-ances appearing in the evidence against him and failure to do so vitiates the conviction.”
 
তৃতীয়ত; In the case of Mizazul Islam @ Dablu Vs. The State reported in 41 DLR (AD) 157 (1989) প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্বৃত হইল;
“The learned Judges of the High Court Division relied on the testimony of P.W.2 Ahsanul Kabir that the sandal was left behind by accused Dablu and concluded “Therefore, the recovery of the plastic sandal links appellant Dablu with the crime.” The learned Sessions Judge, however, omitted to mention the implication of the sandal. The trial Court proceeded relying on the confessional statement and noticed that in 342 statement the accused made no grievance about his torture alleged to have been made by the police for obtaining a confessional statement. While the trial court kept 342 Cr.P.C. in view it is unfortunate that one of the important items for linking up the accused with the crime, namely, the sandal was not at all put to the accused as a circumstance appearing in the case against him. In the similar case In Sarwan Singh Rattan Singh Vs. State of Pubjab reported in A.I.R 1957 (SC) 637, the Indian Supreme Court considered the implication of such omission. It was observed “Unfortunately, in his examination under section 342 of the Code, no question had been put to Sarwan Singh about these shoes. It is not unlikely that Sarwan Singh may have offered to demonstrate that the shoes did not fit in with his feet”. In any event, failure to give him an opportunity to explain the circumstances in his examination 342 jusfifies the defence argument that this circumstance should not be used against him.”
 
উপরে উল্লেখিত মামলার কাহিনী ভিন্ন হইলে গৃহীত সিদ্ধামত এই মামলার ক্ষেত্রে কতুটুকু প্রযোজ্য উহা বিবেচনার জন্য ফৌজদারী কার্য বিধির ৩৪২ ধারা মোতাবেক পরীক্ষিত বর্ণনা নিমেণ উদ্বৃত হইল;

আপনার বিরতদ্ধে এই মর্মে সাক্ষ্য প্রমান আসিয়াছে যে, অত্র জেলার কোতয়ালী থানার অধীন নুরপুর গ্রামের পূবালী ব্যাংকের পূর্ব পার্শ্বে অত্র মামলার এজাহারকারী শেখ মোঃ আনোয়ার হোসেনের বসত বাড়ীতে গত ইং ১২/০৯/১৯৯৪ তারিখে ২২.০০ ঘটিকার সময় আপনারা বেআইনী জনতায় দলবদ্ধ হইয়া মারাত্মক অসএ, বোমা লইয়া পূর্ব শত্রততার জের হিসাবে খুন করিবার উদ্দেশ্যে বোমার বিস্ফোরন ঘটাইয়া এজাহারকারীর বাড়ীতে কাজের মেয়ে নাছিমার (১৬) মাথায় ও ঘাড়ে গুরততর জখম করেন এবং ঘটনাসহলেই সে মারা যায়। উত্তু বোমার আঘাতে ও আপনারা বাদীকে, তাহার ভ্রাতা ছরোয়ার এবং আসলামকে যখম করেন। সে কারনে আপনারা দন্ড বিধির ৩০২/৩৪ ধারা মোতাবেক ধর্তব্য ও শাসিতযোগ্য অপরাধ করিয়াছেন।
উপরোত্তু অভিযোগ প্রমানের জন্য প্রসিকিউশন পক্ষ মোট ৯ (নয়) জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন করিয়াছেন। আপনি আদালতের ডকে হাজির থাকিয়া সমসত সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা শ্রবন করিয়াছেন।
১।আপনার জবাব কি?  উঃ- নির্দোষ।
২। সাফাই সাক্ষী দিবেন কি?  উঃ- না।
৩। আর কিছু বলিবার আছে কি?  উঃ- না।
 
উল্লেখিত বর্ণনা (Statement) পর্যালোচনায় দেখা যায় আপীলকারীর বিরতদ্ধে সাক্ষীগন আদালতে কি বত্তুব্য রাখিয়াছেন, যাহাতে অভিযুত্তু ব্যত্তিুর দন্ডিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে, তাহা সুনিদৃষ্টভাবে তাহাকে অবগত করা হয় নাই, বিজ্ঞ বিচারক কেবলমাত্র পরীক্ষিত সাক্ষীর সংখ্যা উল্লেখ করিয়াছে মাত্র। ইহাতে দন্ডিত আপীলকারী ন্যায় বিচার হইতে বঞ্চিত হইয়াছে। এই প্রসঙ্গে সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হইল; “No one should be condemned unheard. And it is utmost duty of the Court to give an opportunity to an accused to defence himself.”
 
অন্যদিকে দন্ডিত আপীলকারীকে প্রশণ করিলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবী করিয়াছে এবং কোন সাফাই সাক্ষ্য প্রদান করিবে না এবং আর কিছু বলিবে না বলিয়া আদালতকে জানাইয়াছে।      
 
বিজ্ঞ বিচারক যথাযথ প্রত্রিুয়ায় ফৌজদারী কার্য বিধির ৩৪২ ধারায় দন্ডিত আপীলকারীকে পরীক্ষ না করিয়া পদ্ধতিগত আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে মারাতণক ভূল করিয়াছে, পক্ষামতরে সাক্ষ্য গ্রহনের সময় আপীলকারীর পক্ষে লওয়া এলিবাই প্রমানের জন্য এই পর্যায়ে সাফাই সাক্ষী (D.W.) প্রদান ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র আদালতে উপসহাপন ও প্রমান করিবার সুযোগ সৃষ্টি হইলেও আপীলকারী তাহা গ্রহন করে নাই।
 
এই প্রসঙ্গে আপীলকারী পক্ষের বিজ্ঞ কৌশুলী কর্তৃক উপরে উল্লেখিত বিভিন্ন মামলার নজির সমূহের মর্মার্থ আমরা যথাযথ ভাবে অনুধাবন করিয়াছি। ঐ সকল মামলার ঘটনা ভিন্ন হইলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এই আদালত সহ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের দেওয়া মতামতের (observation) সাথে আমরা সম্মানের সাথে একমত পোষন করিতেছি, যাহা এই মামলায় সঠিক সিদ্ধামত গ্রহনের ক্ষেত্রে সহায়ক হইবে।
 
আপীলকারী পক্ষের বিজ্ঞ কৌঁশুলী জব্দকৃত আলামত ও নিহত নাসিমার ক্ষতসহানের রাসায়নিক পরীক্ষা (Chemical Examintaion), ময়না তদমতকারী মেডিক্যাল অফিসারের সাক্ষ্য, সর্বপরি বিশেষজ্ঞের মতামত (Expert Opinion) সম্পর্কে  নিমেণ উল্লেখিত নজির সমূহ উপসহাপন করিয়াছে;
 
প্রথমত: In the case of Aminul Islam alias Ranga and others -Vs- The State reported in 5 BLC (AD) 179 (2000) প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্বৃত হইল;
“As regards conviction and sentence under section 3 of the Explosive Substance Act it appears that though the local witnesses deposed that appellant Mustafizur Rahman caused injury by using an explosive substance but this has not been supported by the evidence of PW 8-Dr Shah Md Akhtaruzzaman. He has not stated that injury No.2 was caused by any explosive substance. He stated that the injury could be caused probably by a chemical substance. From his evidence it cannot be found that PW 1 sustained injury by any explosive substance. The Investigating Officer also failed to get the injury and the shirt of PW.1 examined by an expert to find out whether PW 1 sustained injury by explosive substance. Unless that is proved it cannot be found that appellant No.2 Mustafizur Rahman alias Reza caused injury on the person of PW 1 by any explosive substance.
The trial Court as well as appellate court failed to appreciate the evidence properly and legally and came to an erroneous finding that these appellants are guilty of the charge under section 326 of the Penal Code and under section 3 of the Explosive Substance Act and, as such, it requires interference.
Accordingly, it is ordered that the appeal of appellant No.2 Mustafizur Rahaman alias Reza is allowed in part. His conviction and sentence under section 3 of the Explosive Substance Act is set aside and he is acquitted of the charge under this section but his conviction under section 148 of the Penal code is maintained and his conviction under section 326 is altered to conviction under secion 324 of the Penal code and he is sentenced to suffer imprisonment already undergone under sections 148/324 of the Penal Code.”
 
দ্বিতীয়ত: In the case of Mohammad Ali and another -Vs- The State represented by the Deputy Commissioner, Bakergonj reported in 1 BLC 164 (HCD) 1996, প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্বৃত হইল;
“Upon considering the overall evidence it appears to us that prosecution has hopelessly failed in bringing home the case beyond reasonable doubt. The alleged recovery of explosive substance cannot be established simply because the said material substance were not at all chemically tested by expert and furthermore the seizure list witness No.5 Sukur Howlader even did not know the contents of the polythene bag and thereby he could not support the prosecution case. In fact, no explosive substance was recovered from the possession of the accused appellants.
In the result the appeal is allowed and the order of conviction and sentence passed upon the accused appellants Mohammad Ali and Md. Anisur Rahman are here by set aside.
 
তৃতীয়ত: In the case of Halim Sheikh and other -Vs- The State reported in 13 BLC 102 (HCD) 2005 প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্বৃত হইল;
“In the present case no evidence has been adduced to show that the explosion of bomb was due to explosive substance act the nature of injury was such as likely to cause injury to endanger life or property. No chemical examination of the remains of the bomb or any other substance was conducted as admitted by P.W,14, the Investigating Officer of the case. Even the doctor who examined the victim for his injury, has stated categorically that he has not mentioned in his medical certificate report What chemical substances were present in the bombd that caused the injuries.
From the evidence of the doctor it is not possible to know whether chemical substance was at all present ill the injuries allegedly caused by a bomd. Not only that the explosive substance must be of such extent and quantity that is likely to endanger a person or property. In the present case no such test was made to ascertain that fact and without such test it cannot be said with certainty that the alleged occurrence comes within the mischief of Section 3 of the said Act.
The learned Advocate for the accused appellant has referred to the case of Aminul Islam @ Ranga and other Vs the State reported in 5 BLC (AD) 2000 179.
 
চতুর্থত: In the case of Zamir Ali (Md) and others -Vs- The State reported in 59 DLR 433 (HCD) 2007, প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্বৃত হইল;
 “From a bare reading of the depositions of the PWs 1 to 5, it appears that the damage to property has been caused by the arson which has been set on the residential house through spraying petrol and igniting by match stick. The allegation which has been made as to the use of explosive substance only related to throwing of cocktail or petrol bomb, which is also lump allegation, which admittedly could not cause any fire or explosion of such a nature that endangered life or property. Therefore, we hold that even if it is taken that the convict/ appellant threw cocktail or petrol bomb that does not come under the mischief of section 3 of the Explosive Substances Act 1908, not to speak of that, no such evidence adduced by the PWs 3,4 and 5 which is reliable, upon which the conviction of the convict/appellant could be sustained. The doubt as has crept up from the testimony of PWs 2,3,4 and 5 must go as benefit to the convict/ appellants. Therefore, the arguments of the learned Deputy Attorney General fails and we found sufficient substance in the argument of the learned Advocate Mr. Subrata Chowdhury that the tribunal Judge did not consider the evidence on record in its true perpective. Upon meticulous examination of the aforesaid aspects of the case we are of the considerate view that the impugned judgment suffers from legal and factual infirmity as the same failed to consider that the prosecution could not bring home the charge under section 3 of the Explosive Substances Act 1908 beyond reasonable doubt against the convict-appellants for which the convict-appellants are entitled to the benefit of doubt.”
 
উল্লেখিত মামলার নজির সমূহের ঘটনাবলী তর্কিত মামলার সাথে মিল না হইলেও আলোচনা ও সিদ্ধামত অনুস্বরণ করা যাইতে পারে। জব্দকৃত আলামত যথাযথ ভাবে আদালতে প্রদর্শন ও সনাত্তু হইয়াছে, কিমও উহাতে বিষ্ফোরক দ্রব্যের অসিতত্ব ছিল কিনা বা নাসিমার শরীরের ক্ষতসহানের অংশ রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষ্ফোরক দ্রব্যের অসিতত্ব ছিল কিনা তাহা আইনানুগ প্রত্রিুয়ায় অনুসন্ধান করা হয় নাই।
 
উপরোমও ময়না তদমতকারী মেডিকেল অফিসার মৃতার শরীরে কোন্ ধরনের অসেএর দ্বারা আঘাত করা হইয়াছিল তাহা তিনি বলিতে পারে নাই। এইরতপ অবসহায় ন্যায় বিচারের স্বার্থে উপসহাপিত নজিরগুলি বিবেচনায় লওয়ার দাবী রাখে। বিশেষ করিয়া সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের সিদ্ধামত এই আদালতের জন্য অবশ্য পালনীয় (Mandatory)
 
বোমা বিষ্ফোরনের দ্বারা আঘাত সংঘটিত হইলে মানবদেহে কি ধরনের আঘাত দৃশ্যমান হইবে তাহা বিবেচনায় লওয়ার জন্য আপীলকারীর বিজ্ঞ কৌশুলী Medical Jurisprudence থেকে expart opinion উপসহাপন করিয়াছেন, যাহা নিমেণ উদ্বৃত হইল;
 
The injuries from explosions are mainly due to four factors viz (1) blast (2) flame or hot gases (3) flying missiles, and (4) asphyxia.
Postmortem appearances: When the body is badly shattered, there will be problems of identification. Apart from the injuries due to burns, flying missiles, falling debris, and the effects of the poisonous gases liberated by the explosive, the blast wave produces scattered foci of small haemorrhages in brain, lungs, bowel and mesentery. Passive hyperaemia and/or oedema cause serious secondary brain and lung lesions. Intracranial haemorrhage, contusion of the brain, heart and aortic injuries, pneumothorax, ruptured stomach and bowel, and bladder injuries have been described.
In the investigation of injuries or deaths as a result of explosive device, it is necessary to have good photographs and sketches of the scene. Complete body x-raying of the victims is imperative before the clothing is removed. Gragments of the bomb may be trapped within the clothing or the body tissues. Clothing, and foreign material removed from the clothes or from the body should be carefully preserved for laboratory examination.
Medicolegal Aspects: Injuries from explosions are mainly accidental. Homicidal cases infrequently occur. A time bomb may be left at some place to coincide with someone’s arrival at a particular time when it may explode. Alternatively, an impact bomb may be thrown or left at a venue of a meeting or nearby where it may explode as a result of friction, when some one walks over it or a car passes over it. When a material suspected to be an explosive is discovered, the area should at once be cordoned off and examination of the material including de-fusing undertaken by an expert.
The deliverate destruction of commercial aircrafts in flight has important medicolegal implications. The main difficulty facing the investi-gators is to distinguish sabotage from explosive decompression due to structural failure. In the event of sabotage being shown to be the cause of the accident, the responsibility for insurance passes from the “All Risk” insurers to those under writing “War Risks”
 
জনাব ফজলুর রহমান খান, বিজ্ঞ ডেপুট এ্যাটর্ণী জেনারেল আপীলকারী পক্ষের উপসহাপিত নজির সমূহ এই মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় মর্মে তীব্র বিরোধিতা করিয়াছে, তিনি রাষ্ট্রপক্ষের মামলার সমর্থনে এবং আপীলকারী পক্ষের বিজ্ঞ কৌশুলীর উপসহাপিত বিষয় ভিত্তিক নজির সমূহের বিপরীতে বাংলাদেশ সহ উপমহাদেশের ৬টি মামলার নজির উপসহাপন করিয়াছে, যাহার আইনানুগ অবসহা বিবেচনায় লওয়ার জন্য নিমেণ পর্যায়ত্রুমে আলোচনা করা হইল;
 
ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারা মোতাবেক দন্ডিত আপীলকারীকে আইনানুগ ভাবে পরীক্ষা করা হইয়াছে, মর্মে তাহার বত্তুব্যের সমর্থনে বিজ্ঞ ডেপুটি এ্যটর্ণী জেনারেলের উপসহাপিত নজির সমূহ উদ্বৃত হইল;
 
প্রথমত: In the case of Mohammad Shafi -Vs- The Crown reported in 6 DLR 104 (AD) West Pakistan 1954 প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্বৃত হইল;
“Criminal Procedure Code (V of 1898), Ss. 342 and 537-Accused examined by committal Court on all relevant circumstances-before Sessions Court accused was not examined on circumstances appearing against him but on being asked admitted that his examinations as recorded by committal Court was correct and stated that he did not want to add anything-Whether it is a sufficient compliance with S.342 If not whether trial is vitiated.
Criminal Procedure Code (V fo 1898, Ss. 378 and 429-Case on different of opinions between two Judges referred to third Judge-Reference by third Judge on question of law to Full Bench-Competent.
Where the evidence in the Committal court and in Sessions Court is materially the same and the accused has been examined in the Committal Court upon all relevant circumstances appearing against him and in the Sessions Court the accused has replied to questions that his statement in the lower Court was correct and that he knew nothing about the incident.
Held,- This is not sufficient compliance with the provisions of section 342 of the Criminal Procedure Code.
Failure to comply with the provisions of section 342 in this case has not, however, vitiated the trial since not every contravention of section 342 constitutes a departure from the mode of the trial. It was, however, the duty of the appellate court to consider whether the contravention of the provisions of the section had occasioned a failure of justice.”
 
দ্বিতীয়ত: In the case of Md. Baharuddin Mia -Vs- The State reported in 9 DLR 209 (HCD) 1957, প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্বৃত হইল;
“Failure to examine the accused about his confession will not render the conviction illegal, if there is other evidence to support it.
The fact that the accused was not examined about his extra-judicial confession under section 342, Cr. P.Code, will not render the trial invalid, if there are other evidence besides the extra-judicial confession on record to support the conviction of the accused on the charge framed.”
 
তৃতীয়ত: In the case of Mezanur Rahaman and others -Vs- The State reported in 16 BLD 293 (AD) 1996 প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্বৃত হইল;
“We have heard md. Nowab Ali, learned Advocate-on-Record, in support of the leave petition and gone through the impugned judgment carefully, Mr. Nowab Ali has not been able to make out any point of substance assailing the correctness or propriety of the impugned judgment. He has merely pointed out that during examination of the accused petitioners under section 342 of the Code of Criminal Procedure the confessional statements, which were the main evidence in the case, were not specifically mentioned in the summary of evidence and attention of the accused was not drawn thereto and as such the accused have been prejudiced. This argument, we find, was also made in the High Court Division which was rightly rejected upon good reasons. The learned Judges noticed that although the learned Sessions Judge did not mention anything about the confessional statements at the time of examination of the accused as aforesaid, they (the accused), in whose presence the evidence was recorded, in their reply stated that the confessions were obtained from them by the Police by torture and inducement. They were thus aware of their confessional statements which they had claimed to be involuntary and thus the omission on the part of the learned Sessions Judge to draw their attention to the confessional statements had neither caused any prejudice to them nor vitiated the trial. The learned Judges, therefore found no cogent reason to send the case on remand for a proper examination of the accused under section 342 CrPc.”
 
চতুর্থত: In the case of Mezanur Rahaman and others -Vs- The State reported in 2 BLC 27 (AD) 1997, প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্বৃত করা হইল না, কারন সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ হইতে নিষ্পত্তিকৃত এই মামলাটির প্রাসঙ্গিক অংশ উপরে উপসহাপিত হইয়াছে, 16 BLD 293 (AD) 1996 বিজ্ঞ ডেপুটি এ্যটর্ণী জেনারেল (D.A.G.) অসাবধানতাবসতঃ এই নজিরটি দুই বার উপসহাপন করিয়াছে।
 
বিজ্ঞ ডেপুটি এ্যটর্ণী জেনারেল (D.A.G.) কর্তৃক উপসহাপিত পাকিসহান এবং আমাদের সুপ্রীম কোর্টের আপীল ও হাইকোর্ট বিভাগের নজির নমূহের উল্লেখিত মামলার ঘটনা ও বিষয় বসতু এই মামলা হইতে ভিন্নতর এবং আদালতের মতামত (observation) ও গৃহীত নীতি তর্কিত মামলায় বিচারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র পক্ষের জন্য সহায়ক না হইলেও উল্লেখিত নজির সমূহে আমাদের জ্ঞানের পরিধি বিসতৃতি লাভ করিয়াছে বলা যায়, তর্কিত মামলায় ঐ সকল নজির অনুস্বরন করার সুযোগ নাই।
 
রাসায়নিক পরীক্ষার (Chemical test) বিষয়ে রাষ্ট্র পক্ষে ডেপুটি এ্যটর্ণী জেনারেল (D.A.G.) কর্তৃক উপসহাপিত নজির নিমণরতপ;
 
প্রথমত: In the case of The State -Vs- Altazur Rahaman reported in 2 BCR 264 (AD) 1982 প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্বৃত হইল;
“The judgment of the High Court Division in setting aside the judgment of the trial Court does not appear to be based on cogent reasons liquid on evidence. Absence of chemical examination of the contained in the bottle produced before the Thana and viscera of the deceased, did not in any way render the trial defective. In the face of sufficient evidence to land support to the prosecution case chemical examination as stated by the learned Judge was not at al necessary. In our opinion the prosecution case has been proved, that Parul was killed by throttling by her husband respondent No.1. In that view of the matter the judgment of the High Court Division reversing that of the trial Court is against the weight of the evidence, and as such cannot be sustained.
 
দ্বিতীয়ত: In the case of Gamdoor Singh -Vs- The State reported in 1981 CRL. LJ. 1912 (Criminal Law Jurnal) মামলাটি ভারতের পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা রাজ্যের হাইকোর্টে নিষ্পত্তি হইয়াছে, প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্বৃত হইল;
“The definition as reproduced above is inclusive and by no means exhaustive. Any contrivance by itself, or with the help of another, which would go to make an explosive substance would be covered by the definition. Thus the hand grenades recovered from the possession of the petitioner would be explosive substances within the meaning of the definition despite the fact that in order to explode them, the igniter set had to be fitted to such types. It is noteworthy that the Deputy Controller of Explosives in his report, Exhibit P.5, opined that each of the hand grenades was capable of endangering life on explosion after being suitably initiated with the igniter set or otherwise. There thus is no substance in the first contention raised which merits rejection.”
 
রাসায়নিক পরীক্ষা সংত্রুামত রাষ্ট্র পক্ষের প্রথম নজিরটি এই মামলার জন্য প্রযোজ্য নয়, কারন উহা একটি সএী হত্যা মামলা ছিল, স্বামী কর্তৃক শ্বাস রোধ করিয়া তাহার সএীকে হত্যা করার বিষয়টি সাক্ষ্য প্রমানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ঘটনার অব্যবহিত পরে (subsequent) বিষ প্রয়োগে নিহত হওয়া সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ মমতব্য করিয়াছে যে, “In the face of sufficient evidence to land support to the prosecution case chemical examinition as stated by the learned Judge was not at all necessary. In our opinion the prosecution case has been proved the Parul was killed by throattling by her husband.” সুতরাং তর্কিত মামলার ক্ষেত্রে নজিরটি প্রাসঙ্গিক নয়।
 
Chemical Explosive Substance এর সংত্রুামেত ভারতের পাঞ্চাব ও হরিয়ানা প্রদেশের হাইকোর্ট মমতব্য করিয়াছেন যে, “Thus the hand grenades recovered from the possession of the petitioner would be explosive substances within the meaning of the defination despite the fact that in order to exploded them, the igmiter set had to be filled to such typer.” তর্কিত মামলায় ব্যবহদত হাত বোমাটি প্রসতুত সহানীয় জর্দার কৌটায়, সেকারনে মামলাটি প্রমানের জন্য উত্তু জর্দার কৌটায় প্রকৃত পক্ষে বিষ্ফোরক দ্রব্য (Explosive Substances) ছিল কিনা, তাহা নির্নয়ের জন্য রাসায়নিক পরীক্ষা (Chemical Examination) সহ বিশেষজ্ঞ মতামত (Expert opinion) অপরিহার্য। যাহা তর্কিত মামলায় রাষ্ট্র পক্ষ না করিয়া তদমতকারী কর্মকর্তা গুরততর উদাসীনতার পরিচয় দিয়াছে।
 
জনাব ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ, বিজ্ঞ সহকারী এ্যাটর্ণী জেনারেল রাষ্ট্র পক্ষের মামলা সমর্থনে Subsequent embelishment or departure of the FIR প্রশেণ এই আদালতে ২টি নজির এবং বোমার আঘাতে মানব দেহে কোন ধরনের আঘাতের চিহু পরিলক্ষিত হয় তাহা এই মামলায় রাষ্ট্র পক্ষে বিবেচনার জন্য Modis Medical Jurisprudence and Toxicology গ্রমেহর প্রাসঙ্গিক অংশ উপসহাপন করিয়াছে;
 
প্রথমত: In the case of Al-Amin and 5 others -Vs- the State reported in 51 DLR 154 (HCD) 1999 প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্বৃত হইল;
“In this context it must be reme-mbered that the First Information Report is not the encyclopaedia. It is neither the beginning nor the ending of every case. It is only a complaint to get the law or order in motion. It is only an initiative to move the machinery and to investigate into a cognizable offence. It is only at the investigation stage that all the details can be gathered and filled up. The First Information Report, thus, cannot be treated as the first and the last word of a prosecution case. (Emphasis ours). So, to reject the case of commission of rape upon victim A on the ground of non-mentioning the fact First Information report is to record an inadequate appreciation of the criminal investigation and weight is to attached to the legal evidence in the case itself. Legal evidence is that evidence which is adduced by a witness before the Court at the time of trial and not the statement made in the First Information Report. (Emphasis ours). P.W.2 categorically stated that Nantu, Mithun, Reaz, Biplob and Al Amin committed rape upon her. The conduct of the Victime A in not laying the Report of the traumatic experience she undergone immediately after the incident and not disclosing the commission of rape in the said  Report taking into considera-tion of honour and dignity of herself and herfamily appears to be most natural and the same is the normal course of human conduct. It is only at the investigation stage commission of rape had been disclosed by making statement recorded under section 164 of the Code of Criminal Procedure and the matter is in accord with the natural human conduct of an unmarried female. The Bishes Adalat was not justified in discarding the prosecution for victim As non-disclosure of the Commission of rape upon her.”
 
দ্বিতীয়ত: In the case of Al-Amin with 5 others appellant in several Criminal Appeal reported in 19 BLD (HCD) 1999.
 
প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্বৃত করা হইল না, কারন উল্লেখিত মামলাটি ২টি লজার্নালে একই  নজির প্রকাশিত হওয়ায় বিজ্ঞ সহকারী এ্যাটর্ণী জেনারেল অসাবধান বসত: উহা আদালতে উপসহাপন করিয়াছে।
 
প্রথমত: উল্লেখিত নজিরে আদালতের অভিমত এই যে, First Information Report is not the encyclopaedia. It is neither the beginning nor the ending of every case. It is only a complaint to get the law or order in motion. It is only an initiative to move the machinery and to investigate into a cognizable offence. It is only at the investigation stage that all the details can be gathered and filled up. The First Information Report, thus, cannot be treated as the first and the last word of a prosecution case. মামলার ঘটনা ভিন্ন হইলেও উপরোত্তু সিদ্ধামেতর মৌলিক নীতি তর্কিত মামলার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক, সেকারন ন্যায় বিচারের স্বার্থে ইহা গ্রহন যোগ্য।
 
বোমা বিষ্ফোরনে আঘাত সংঘটিত হইলে মানবদেহে কোন ধরনের আঘাত দৃশ্যমান হইবে তাহা বিবেচনার জন্য বিজ্ঞ সহকারী এ্যাটর্ণী জেনারেল Modis Medical Jurisprudence and Toxicology গ্রমেহর ৫৪৭ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত Expart opinion নিমেণ উদ্বৃত হইল;

“Post mortem- The primary role of the medical investigation of explosive trauma is to document the injuries and collect evidence that will assist with the investigation of the nature and source of explosion. The examination and documentation of injuries sustained by victims of explosions is essentially similar, whether or not the victim dies.
Even though, the causes of the death appear to be explosion, it should be ascertained to rule out ante-mortem death.
The post-mortem examination in cases of explosive injury can be divided into six separate phases:
  1. identification;
  2. radiological examination;
  3. collection of surface evidence;
  4. eocumentation of injuries;
  5. identification of natural disease; and
  6. collection of internal samples.
 
During post-mortem, the non-human tissue should be identified and discarded. A naked-eye examination or an antigen-antibody reaction can give the difference. Pieces of scalp, skin, jaw, joints, spine, pelvis, hands of feet can be helpful to establish the number of victims. The hair on the scalp is compared according to colour, length and texture. The pieces of skin are separated according to colour. The joints are identified and separated into right and left. The hands and feet compared for size, general configuration and skin colour and texture. Examination of visceral organs for uterine cervixes, prostate glands, external genitilia can help to fix the sex and the number of victims. Clothing of the victims, fingerprinting, dentition and dentures, scars, tattoos, deformities, X-rays of the victims that show old fractures, bony changes and stones help in the identification of the bodies.
X-rays also help to detect radiopaque objects that might facilitate in tracing the manufactures of the bomb. Further, it will assist in detecting lethal missiles not visible from the surface. In victims who have been in close proximity to the explosive device, small fragments of trace metal that had formed part of the bomb mechanism can be identified and recovered. X-ray examination may also reveal evidence of other injuries such as gun shot wounds sustained prior to the explosion, since in many cases of terrorist explosions, the victims may have been murdered or tortured prior to death.
All injuries can be classified into five general groups.
  1. blunt impact injuries;
  2. incised wounds;
  3. penetrating injuries;
  4. burns;
  5. fractures.”
 
এজাহার, চার্জসীট, ময়না তদমত রিপোর্ট, পরীক্ষিত সাক্ষ্য, ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারা মোতাবেক আপীলকারীকে পরীক্ষা, নিমণ আদালতের তর্কিত রায় এবং উভয় পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবীগনের বত্তুব্যের স্বপক্ষে উপসহাপিত বিষয় ভিত্তিক উচ্চ আদালতের নজির সমূহ আমরা নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষন ও পর্যালোচনা করিয়াছি।
 
আপীলকারী পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবী এজাহার, চার্জসীট এবং তর্কিত রায়ে দন্ডিত আসামীর সংখ্যা নিয়ে প্রশণ তুলিয়া ইহাকে মিথ্যা মামলা বলিয়া অবিহিত করিয়াছে, সংখ্যার তারতম্যের কারনে দন্ডিত আসামী অভিযোগের দায় হইতে মুত্তিু পাবে কিনা সে মর্মে তিনি কোন আইন বা নজির উপসহাপন করেন নাই। নথি দৃষ্টে একথা বলা যায় যে, যথাযথ আইনী প্রত্রিুয়ায় তদমতকারী কর্মকর্তা মামলাটির তদমত কার্য সম্পাদন করিতে যথেষ্ট অবহেলা ও দায়ীত্বহীনতার পরিচয় দিয়াছে। বোমা বিষ্ফোরন সংঘটিত হইলে বা কেহ আহত বা নিহত হইলে মামলাটি সংশ্লিষ্ট আইনে প্রমানের জন্য জব্দকৃত আলামত অবশ্যই রাসায়নিক পরীক্ষা (Chemical test) করিয়া বিশেষজ্ঞের মতামত (Expert opinion) সংগ্রহ করা তদমতকারী কর্মকর্তার (Investigating Officer) দাীয়ত্ব ছিল, বিষ্ফোরক দ্রব্যের (Explosive substance) মামলা প্রমানের জন্য ইহা আইনানুগভাবে অবশ্য পালনীয় কার্য (Mandatory Provisions of Law) এ প্রসঙ্গে উপসহাপিত সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের সিদ্ধামত যাহা 5 BLC (AD) 179 (2000) প্রকাশিত হইয়াছে উহা আমাদের জন্য অবশ্য পালনীয় নির্দেশনা। সেকারন ইহা দৃঢ়তার সাথে বলা যায় পুলিশ কর্মকর্তাগনের ইচ্ছাকৃত বা অজ্ঞতা জনিত কারনে মামলাটির অপুরনীয় ক্ষতি হইয়াছে, যাহার দায়ভার তদমতকারী কর্মকর্তা কোনভাবেই এড়াইতে পারে না।
 
ময়নাতদমত রিপোর্টে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ডাত্তুার নিহত নাসিমার শরীরে আঘাতের চিহুগুলি কোন ধরনের অসএ দ্বারা সংঘটিত হইয়াছে, তিনি তাহা উল্লেখ করে নাই। অনুরতপ অবসহায় তদমতকারী কর্মকর্তা মৃতার শরীরের যখম গুলি কোন জাতের অসএ দ্বারা সংঘটিত হইয়াছে তাহা চিঠি দ্বারা (স্মারক মারফত) জানিতে চাহিলে সংশ্লিষ্ট ডাত্তুারের ব্যাখ্যাও সমেতাষজনক নয়। তিনি রেডিওলোজিষ্টের মাধ্যমে মতামত দিয়াছেন যে, উল্লেখিত জখমের ভিতর কোন স্পিলিন্ট বা বিষ্ফোরক জাতীয় দ্রব্য পাওয়া যায় নাই।
 
প্রত্যক্ষ্য দেখা সাক্ষী হিসেবে ১, ৩, ৪ ও ৬ নং সাক্ষী একে অপরকে জোরালো ভাবে সমর্থন করিয়া সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে। ৫ ও ৭ নং সাক্ষী বোমা বিষ্ফোরনের শব্দ শুনিয়া অব্যবহিত পরে ঘটনাসহলে আসিয়া নাসিমাকে মৃত দেখিয়াছে এবং এজাহারকারী (Informant) সহ অন্যান্যদের নিকট ঘটনা শুনিয়াছে। পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য হিসাবে তাহারা রাষ্ট্র পক্ষের মামলা সমর্থন করিয়া আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে। ৮ ও ৯ নং সাক্ষী যথাত্রুমে ডাত্তুার ও তদমতকারী কর্মকর্তা, নাসিমার মৃত্যু আঘাত জনিত কারনে হইয়াছে মর্মে তাহারা ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা প্রমান করিয়াছে। পক্ষামতরে ৭ নং সাক্ষী জেরায় বলিয়াছে নাসিমার মায়ের দায়েরকৃত হত্যা মামলায় তিনি ও তাহার পুত্রগন আসামী ছিল বলিয়া শুনিয়াছেন। এই সাক্ষী অনুরতপ সাজেশন স্বীকার করায় হত্যা মামলা সম্পর্কে সামান্যতম হইলেও সন্দেহের সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় বিজ্ঞ বিচারক দন্ডিত আপীলকারীকে পরীক্ষা করিয়াছে, উত্তু পরীক্ষিত বর্ণনা (Statement) অত্র রায়ের পূর্বাংশে আমরা পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করিয়াছি। যাহাতে সংশ্লিষ্ট বিধিবদ্ধ আইনের নির্দেশনা যথাযত ভাবে প্রতিপালন করা হয় নাই। আপীলকারী পক্ষের উপসহাপিত সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের সিদ্ধামত এই আদালতের জন্য অবশ্য পালনীয় (Mandatory)। নিমণ আদালতে বিজ্ঞ বিচারকের অনুরতপ ভূলের সুবিধা আপীলকারীর অনুকুলে মিমাংসীত হইবে ইহা উচ্চ আদালতের নির্দেশনা।

পূর্ব শত্রততার বিষয়টি উভয় পক্ষে সমান ভাবে বিবেচনা করা যায়। কারন পূর্ব শত্রততার কারনে প্রতিপক্ষের বিরতদ্ধে যেমন মিথ্যা মামলা হইতে পারে। অপর দিকে সহায়-সম্পত্তি লইয়া পূর্ব বিরোধের কারনে প্রতিপক্ষ দ্বারা এজাহারকারীর বাড়ীতে বোমা হামলার বিষয় উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেকারন পূর্ব বিরোধের প্রশণটি বিবেচনায় না লইলেও এই মামলার ফলাফলের ক্ষেত্রে কোন বিশেষ প্রভাব পড়িবে না।

নাসিমার মৃত্যু সংত্রুামেত তাহার মা বাদী হইয়া দায়েরকৃত পৃথক হত্যা মামলাটি এই মামলায় বিবেচনা করার আইনানুগ সুযোগ সৃষ্টি হয় নাই। কারন আপীলকারী পক্ষ হইতে সাফাই সাক্ষ্য (D.W.) প্রদান বা কথিত হত্যা মামলার সহিমোহরী নকল (Certified Copy) এই মামলায় বিবেচনার জন্য সুযোগ সৃষ্টি হওয়া সত্বেও আপীলকারী বিচারিক আদালতে উহা উপসহাপন করে নাই।

বোমার আঘাতে নাসিমার মৃত্যু হইয়াছে, এইরতপ কোন তথ্য ময়না তদমত রিপোর্টে উল্লেখ করা বা বোমা বিষ্ফোরনে নিহত হইলে বিষ্ফোরক দ্রব্যের রাসায়নিক পরীক্ষার প্রয়োজন নেই মর্মে রাষ্ট্র পক্ষের বিজ্ঞ ডেপুটি এ্যাটর্ণী জেনারেলের এইরতপ বত্তুব্যের আইনানুগ কোন ভিত্তি নাই। পারষ্পরিক সমর্থনযোগ্য সাক্ষ্য (Corroborative evidence) দ্বারা মামলাটির সত্যতা সম্পর্কে দেয়া বত্তুব্যের যথার্থতা আছে এবং ইহা গ্রহন যোগ্য তবে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় দন্ডিত আপীলকারীকে সঠিকভাবে পরীক্ষা করা হইয়াছে, রাষ্ট্র পক্ষের এইরতপ বত্তুব্য গ্রহন যোগ্য নয়। ঐ বিষয়ে উপসহাপিত নজির সমূহও এই মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

তর্কিত রায়ে বিজ্ঞ বিচারক সংশ্লিষ্ট বিধিবদ্ধ আইনের মর্মার্থ সঠিকভাবে উপলব্ধি না করিয়া তাহার স্বপ্রনোদিত ব্যাখ্যা উত্তু রায়ের গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে অহেতুক প্রশেণর জন্ম দিয়াছে। বিজ্ঞ বিচারকের বিচারক সূলভ মনোভাব লইয়া বিবেচনা করিয়া সংশ্লিষ্ট আইনের আলোকে মামলাটির তদমতকালীন ত্রতটি সংশোধনের ব্যবসহা গ্রহন করিতে পারিত, যাহা তিনি করে নাই। তর্কিত রায় প্রদানের সময় তিনি মামলা প্রমানের গুরতত্বপূর্ন ও জরতরী উপাদান সমূহ দৃষ্টিগোচরে আনয়ন না করিয়া মামলাটি সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানের ক্ষেত্রে প্রশণবিদ্ধ করিয়াছে।

বিষ্ফোরক দ্রব্য (Explosive Substacne) রাসায়নিক পরীক্ষা (Chemical test) করিয়া বিশেষজ্ঞ মতামত (Expert opinion) গ্রহন না করিয়া বোমা বিষ্ফোরনে হত্যার বিষয়ে যে প্রশণ সৃষ্টি হইয়াছে, তাহা ময়না তদমতকারী ডাত্তুারের মতামতে সুপ্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। অভিযুত্তু আসামীর বিরতদ্ধে গঠিত অভিযোগ প্রমানে সন্দেহের সৃষ্টি হইলে তাহার ফলাফল (Benefit of doubt) আইনানুগ ভাবে আপীলকারীর পক্ষে নিষ্পত্তি হইবে। ইহাই সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের প্রতিষ্ঠিত নীতি।

এই প্রসঙ্গে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ নূরতল ইসলাম এবং অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র মামলায় সিদ্ধামত যাহা 10 BCR (AD) 339 (1990) এ প্রকাশিত হইয়াছে। ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে আমাদের সর্বোচ্চ আদালত  Benefit of doubt দন্ডিত আপীলকারী পক্ষে মিমাংসা করিয়াছে, যাহা এই আদালতের জন্য অবশ্য পালনীয় (Mandatory) হিসাবে বিবেচিত হইবে।

নিহত নাসিমার শরীরে আঘাতের চিহু সম্পর্কে আপীলকারী পক্ষের বিজ্ঞ কৌশুলী এবং রাষ্ট্র পক্ষের বিজ্ঞ সহকারী এ্যাটর্ণী জেনারেল ২টি পৃথক বিশেষজ্ঞ মতামত (Expert opinion) উপসহাপন করিয়াছে। উত্তু মতামত (opinion) ২টি আমরা পর্যালোচনা করিয়া দেখিলাম বিশেষজ্ঞ (Expert) দ্বয় এই ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মতামত প্রদান করিয়াছে। অনুরতপ অবসহায় ইহা অত্র মামলায় বিবেচনায় না লইলেও সঠিক সিদ্ধামত গ্রহন করিতে কোন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হইবে না।

নিমণ আদালতের নথিতে সংরক্ষিত প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র উভয় পক্ষের বওুব্য এবং পক্ষগনের উপসহাপিত নজির সমুহ পর্যালোচনা করিয়া আমরা এই মর্মে একমত পোষন করিয়াছি যে, বিজ্ঞ অতিরিওু দায়রা জজ, ৩য় আদালত, যশোর তর্কিত হত্যা মামলাটি বোমা বিস্ফোরনে সংঘটিত হওয়ায় উহার তথ্য-উপাত্ত, গুরতত্বপূর্ন উপাদান এবং আইনানুগ ফলাফল মনোযোগের সহিত আইনানুগ ভাবে মুল্যায়ন না করিয়া ভাবাবেগের বসবর্তিতে ভ্রমাত্মক সিদ্ধামেত উপনিত হইয়া আপীলকারীকে উল্লেখিত দন্ড ও সাজা প্রদান করিয়াছে। যাহা প্রচলিত আইন ও প্রতিষ্ঠিত নজির সমূহ কোনভাবেই সমর্থন করে না। সেকারন সার্বিক অবসহা বিবেচনায় মামলাটি সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত না হওয়ায় নিমণ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত দন্ড ও সাজার রায় রক্ষনীয় নয়।

এমতাবসহায় আমরা মনে করি আপীলটি মঞ্জুর করার জন্য আইনানুগ ও যথেষ্ট যুওিু সঙ্গত হেতুবাদ বিদ্যমান রহিয়াছে।

অতএব ন্যায় বিচারের স্বাথে অত্র ফৌজদারী আপীলটি মঞ্জুর করা হইল।

বিজ্ঞ অতিরিত্তু দায়রা জজ, ৩য় আদালত, যশোর কর্তৃক দায়রা মামলা নং-৬৮/১৯৯৬ যাহা কতোয়ালী থানার মামলা নং-২৪ তারিখ ১৩/০৯/১৯৯৪ এবং জি,আর, নং-১০৭৩/১৯৯৪ ধারা ৩০২/৩৪ দন্ডবিধি হহ~তে উদ্ভূত, উহাতে আপীলকারী ওমর ফারতক ওরফে মন্টু, পিতা-সানাউল্লা পাটোয়ারী ওরফে সানাউল্লা, সাং-নূরপুর, থানা-কতোয়ালী, জেলা-যশোর কে গত ইংরেজী ১৭/০৫/১৯৯৯ তারিখে প্রদত্ত দন্ড ও সাজার রায় রদ-রহিত করা হইল।

আপীলকারী ওমর ফারতক ওরফে মন্টুকে অত্র মামলার দায় হইতে অব্যহতির (খালাস) আদেশ দেওয়া হইল।

আপীলকারীর জামিনের মুচলেকা প্রত্যাহার করা হইল।

এই রায়ের কপি সহ| নিমণ আদালতের নথি এই মুহুর্তে সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রেরনের জন্য অফিসকে আদেশ দেওয়া হইল।

Ed.