বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৮

( ২০১৮ সনের ৫৩ নং আইন )

[ ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ]

The Livestock Research Institute Ordinance, 1984 রহিতক্রমে উহার বিধানাবলি বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতন আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন

যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন) দ্বারা ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক ফরমান দ্বারা জারিকৃত অধ্যাদেশসমূহের অনুমোদন ও সমর্থন সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তপশিলের ১৯ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হইয়াছে এবং সিভিল আপিল নং ৪৮/২০১১ এ সুপ্রীমকোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন ১৯৮৬, (১৯৮৬ সনের ১নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ায় উক্ত সময়কালের অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা লোপ পাইয়াছে; এবং

যেহেতু ২০১৩ সনের ৭নং আইন দ্বারা উক্ত অধ্যাদেশসমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর রাখা হইয়াছে; এবং

যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া আবশ্যক বিবেচিত অধ্যাদেশসমূহ সকল স্টেক-হোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণ করিয়া প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে সময়ের চাহিদা প্রতিফলনে বাংলায় নূতন আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে; এবং

যেহেতু সরকারের উপরি-বর্ণিত সিদ্ধান্তের আলোকে, The Livestock Research Institute Ordinance, 1984 (Ordinance No. XXVIII 1984) রহিতক্রমে উহার বিধানাবলি বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদা প্রতিফলনে নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজন;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন১। (১) এই আইন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

সংজ্ঞা২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(১) ‘‘ইনস্টিটিউট’’ অর্থ ধারা-৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট;

(২) ‘‘কো-চেয়ারম্যান’’ অর্থ বোর্ডের কো-চেয়ারম্যান;

(৩) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ বোর্ডের চেয়ারম্যান;

(৪) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(৫) ‘‘প্রাণিসম্পদ বা প্রাণী’’ অর্থ যে কোনো প্রাণী বা পোল্ট্রি যাহা গৃহে বা খামারে লালন-পালন করা যায় এবং এতদুদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক, সময় সময়, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা ঘোষিত অন্য কোনো প্রাণী;

(৬) ‘‘পোল্ট্রি’’ অর্থ গৃহে বা খামারে লালন-পালন করা যায় এইরূপ কোনো পাখি;

(৭) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(৮) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ ধারা ৭ এর অধীন গঠিত পরিচালনা বোর্ড;

(৯) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক; এবং

(১০) ‘‘সদস্য’’ অর্থ বোর্ডের সদস্য।

ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা৩। (১) Livestock Research Institute Ordinance, 1984 (Ordinance No. XXVIII of 1984) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Livestock Research Institute এই আইনের অধীন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট নামে একটি ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(২) ইনস্টিটিউট একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।

ইনস্টিটিউটের কার্যালয়, আঞ্চলিক কেন্দ্র, ইত্যাদি৪। (১) ইনস্টিটিউটের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।

(২) বোর্ড প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, দেশের যে কোনো স্থানে উহার আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপন করিতে পারিবে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল আইন এর প্রয়োগ৫। (১) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ১৩ নং আইন) এর ধারা ৩ এর অধীন গঠিত কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশ, সুপারিশ বা পরামর্শ ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রতিপালিত হইবে :

তবে শর্ত থাকে যে, যদি ইনস্টিটিউটের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উক্তরূপ কোনো সুপারিশ বা পরামর্শ প্রতিপালন করা সম্ভব নয়, তাহা হইলে ইনস্টিটিউট, অনতিবিলম্বে কারণ উল্লেখপূর্বক উহার মতামত কাউন্সিলকে অবহিত করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ইনস্টিটিউটের নিকট হইতে প্রাপ্ত মতামত বিবেচনা করিয়া কাউন্সিল তদকর্তৃক প্রদত্ত কোনো সুপারিশ বা পরামর্শ সংশোধন বা বাতিল করিতে পারিবে বা উক্ত বিষয়ে নূতন কোনো সুপারিশ বা পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবে।

পরিচালনা ও প্রশাসন৬। ইনস্টিটিউটের পরিচালনা ও প্রশাসন একটি বোর্ডের অধীন ন্যস্ত থাকিবে এবং ইনস্টিটিউট যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে বোর্ডও সে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিতে পারিবে।

বোর্ড গঠন৭। (১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে ইনস্টিটিউটের একটি পরিচালনা বোর্ড গঠিত হইবে, যথা :-

(ক) মন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, যিনি বোর্ডের চেয়ারম্যানও হইবেন;

(খ) প্রতিমন্ত্রী বা উপ-মন্ত্রী, যদি থাকে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, যিনি বোর্ডের কো-চেয়ারম্যানও হইবেন;

(গ) জাতীয় সংসদের স্পিকার কর্তৃক মনোনীত ২ (দুই) জন সংসদ-সদস্য;

(ঘ) সচিব, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, যিনি বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যানও হইবেন;

(ঙ) সদস্য (কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান) পরিকল্পনা কমিশন;

(চ) উপাচার্য, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়;

(ছ) নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল;

(জ) অর্থ বিভাগ কর্তৃক মনোনীত অন্যূন অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার ১(এক) জন প্রতিনিধি;

(ঝ) মহাপরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর;

(ঞ) সরকার কর্তৃক মনোনীত ইনস্টিটিউটের গবেষণা কর্মে নিয়োজিত ২(দুই) জন কর্মচারী;

(ট) সরকার কর্তৃক মনোনীত প্রাণিসম্পদ সংক্রান্ত বিষয়ে অভিজ্ঞ ও আগ্রহী ২(দুই) জন ব্যক্তি, যাহাদের মধ্যে ১ (এক) জন মহিলা হইবেন;

(ঠ) মহাপরিচালক, যিনি বোর্ডের সদস্য-সচিবও হইবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) ও (খ) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মন্ত্রী না থাকিলে এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রী থাকিলে প্রতিমন্ত্রী চেয়ারম্যান ও উপ-মন্ত্রী কো-চেয়ারম্যান হইবে এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী না থাকিলে উপ-মন্ত্রী চেয়ারম্যান হইবেন।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে যে কোনো সময়, কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে মনোনীত কোনো সদস্যকে পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।

(৪) কোনো সদস্য যে কোনো সময় সরকারের উদ্দেশ্যে তাহার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করিতে পারিবেন।

বোর্ডের কার্যাবলি৮। (১) বোর্ডের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :-

(ক) ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়াদির নীতিগত অনুমোদন;

(খ) ইনস্টিটিউটের কার্যাবলির তত্ত্বাবধান এবং দিক নির্দেশনা প্রদান;

(গ) ইনস্টিটিউটের নীতিগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান;

(ঘ) ইনস্টিটিউট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা, কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অনুমোদন;

(ঙ) ঋণ গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও এতদসংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন;

(চ) বিদেশে উচ্চ শিক্ষা বা গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব অনুমোদন;

(ছ) এই আইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ সরকারি কোনো নির্দেশ বা কর্মসূচী বাস্তবায়ন।

(২) বোর্ড উহার দায়িত্ব পালন ও কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে এই আইন, বিধি এবং প্রবিধান অনুসরণ করিবে।

বোর্ডের সভা৯। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

(৩) প্রতি ৩ (তিন) মাসে বোর্ডের অন্যূন ১ (এক) টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

(৪) বোর্ডের সদস্য-সচিব, চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে, লিখিত নোটিশ দ্বারা বোর্ডের সভা আহবান করিবেন।

(৫) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে কো-চেয়ারম্যান এবং উভয়ের অনুপস্থিতিতে ভাইস-চেয়ারম্যান সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৬) বোর্ডের সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।

(৭) প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণী সংরক্ষণ, সদস্যদের নিকট প্রেরণ এবং পরবর্তী বোর্ড সভায় উপস্থাপন করিতে হইবে।

(৮) বোর্ডের সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে প্রদত্ত ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতি নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।

(৯) বোর্ডের কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তদসম্পর্কে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।

ইনস্টিটিউটের ক্ষমতা ও কার্যাবলি১০। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ইনস্টিটিউটের ক্ষমতা ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :-

(ক) গবেষণার মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদের মৌলিক সমস্যা শনাক্তক্রমে উহার সমাধানের উপায় নির্ধারণ বা চিহ্নিত করা;

(খ) প্রাণিসম্পদের বিভিন্ন প্রকার রোগ দ্রুত শনাক্তকরণ এবং উহার চিকিৎসার জন্য উপযোগী পদ্ধতি উদ্ভাবন করা;

(গ) প্রাণিসম্পদ উৎপাদনের উপর বিভিন্ন প্রকার ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক এবং পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট রোগ এবং উহাদের সংক্রমণ প্রভাব নির্ণয়ে ইপিডিমিওলজিক্যাল গবেষণা (Epidemiological Research) পরিচালনা করা;

(ঘ) প্রাণী এবং পোল্ট্রিতে বিভিন্ন প্রকার জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট রোগের বিষয়ে প্রাণীর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সংক্রান্ত গবেষণা এবং রোগের যথাযথ প্রতিষেধক উৎপাদনের জন্য লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা;

(ঙ) দুধ, মাংস ও কর্ষণ শক্তি উৎপাদন বৃদ্ধি সহায়ক প্রাণিসম্পদের উন্নত জাত উদ্ভাবন এবং ডিম ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি সহায়ক পোল্ট্রির উন্নত জাত উদ্ভাবন করা;

(চ) প্রাণী খাদ্যের উৎপাদন এবং সংরক্ষণ পদ্ধতির উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক উপজাত, উচ্ছিষ্ট ও অপ্রচলিত খাদ্য সামগ্রীর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা;

(ছ) আপদকালীন সময়ে প্রাণিখাদ্য যোগানের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণযোগ্য প্রাণিখাদ্য প্রস্তুতকরণের কৌশল উদ্ভাবন করা;

(জ) প্রাণী হইতে মানুষে সংক্রমণযোগ্য রোগ (Zoonotic Diseases) এবং আন্ত:দেশীয় প্রাণিরোগ (Trans boundary Animal Diseases) প্রতিরোধকল্পে গবেষণার মাধ্যমে উক্ত রোগ নির্মূলের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকারে মানসম্পন্ন টিকা উদ্ভাবন করা;

(ঝ) প্রাণি হইতে মানুষে সংক্রমণযোগ্য রোগ (Zoonotic Diseases) নিয়ন্ত্রণে একস্বাস্থ্য (One health) বিষয়ক গবেষণা পরিচালনা করা;

(ঞ) প্রাণীর সুস্বাস্থ্য রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চতকরণের ব্যবস্থাপনা কৌশলের উন্নয়ন করা;

(ট) প্রাণীসম্পদের চিকিৎসায় ঔষধ হিসাবে দেশীয় গাছগাছড়ার ঔষধি গুণাগুণ মূল্যায়ন এবং উহার ব্যবহারের সম্ভাবনা পরীক্ষা করা;

(ঠ) প্রাণিস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর গাছ চিহ্নিত করা এবং উহার বিরূপ প্রভাব নির্ণয় ও প্রতিকারের উপায় শনাক্ত করা;

(ড) প্রাণিজপণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের লক্ষ্যে উহার পচন রোধ এবং সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুণগতমান বজায় রাখিবার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ও উন্নত পদ্ধতি উদ্ভাবন করা;

(ঢ) প্রাণী এবং উৎপাদিত প্রাণিজপণ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন উপাদানের উৎপাদন ব্যয় নির্ণয় করা;

(ণ) ক্রমবর্ধিঞ্চু জনসংখ্যার এই দেশে প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নূতন নূতন প্রযুক্তি, জ্ঞান উদ্ভাবন ও উন্নয়ন করা;

(ত) প্রাণিসম্পদের উপর গবেষণালদ্ধ ফলাফলে প্রয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করা;

(থ) জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় প্রাণিসম্পদ বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যা সংক্রান্ত সেমিনার, আলোচনা সভা বা কর্মশালা আয়োজন করা;

(দ) পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে বায়োটেকনোলজি এবং ন্যানো টেকনোলজি বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা;

(ধ) অঞ্চলভিত্তিক পোল্ট্রি এবং প্রাণিসম্পদের উপর গবেষণা কর্ম পরিচালনা করা;

(ন) প্রাণিসম্পদের উপর গবেষণা সংক্রান্ত তথ্য কৃষকের নিকট পৌঁছানো;

(প) প্রাণিসম্পদ এবং উহা হইতে উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত সমস্যা নির্ণয় এবং প্রাণিজপণ্যের শ্রেণিবিন্যাসসহ উহা বাজারজাতকরণে উপযুক্ত পদ্ধতির উন্নয়ন করা;

(ফ) নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য বিষয়ক গবেষণা পরিচালনা করা;

(ব) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং দেশি-বিদেশী দাতা সংস্থার সহিত চুক্তি সম্পাদন করা;

(ভ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যাবলি সম্পাদন করা।

প্রাণী বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গবেষণা১১। ইনস্টিটিউট প্রাণী বর্জ্যের প্রকৃতি ও বহুমুখী উপযোগিতা এবং উহার পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থাপনার উপর গবেষণা পরিচালনাক্রমে পদ্ধতি উদ্ভাবন করিবে।

মহাপরিচালক১২। (১) ইনস্টিটিউটের একজন মহাপরিচালক থাকিবেন।

(২) মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির মেয়াদ ও শর্তাবলি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।

(৩) মহাপরিচালক ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং তিনি-

(ক) বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন;

(খ) বোর্ডের পক্ষে ইনস্টিটিউটের কার্যাবলি সম্পাদন ও প্রশাসন পরিচালনা করিবেন; এবং

(গ) সরকার বা বোর্ড কর্তৃক, সময় সময়, তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করিবেন।

(৪) মহাপরিচালকের পদ শূন্য হইলে বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা তিনি পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করিবেন।

কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি১৩। ইনস্টিটিউট উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

তহবিল১৪। (১) ইনস্টিটিউটের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে অর্থ জমা হইবে, যথা:-

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(খ) গৃহীত ঋণ;

(গ) গবেষণা স্বত্ব ও সেবা হইতে প্রাপ্ত আয়;

(ঘ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে কোনো দেশি বা বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা হইতে প্রাপ্ত অনুদান;

(ঙ) কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(চ) নিজস্ব আয় বা অন্য কোনো বৈধ উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

(২) তহবিলের সকল অর্থ তপশিলি ব্যাংকে ইনস্টিটিউটের নামে জমা রাখিতে হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালনা করা হইবে :

তবে শর্ত থাকে যে, বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিলের অর্থ পরিচালিত হইবে।

ব্যাখ্যা।- ‘‘তপশিলি ব্যাংক’’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972 (President’s Order No. 127 of 1972) এর Article 2(j) তে সংঙ্গায়িত Scheduled Bank কে বুঝাইবে।

(৩) তহবিল হইতে সরকারের নিয়ম-নীতি ও বিধি-বিধান অনুসরণক্রমে ইনস্টিটিউটের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা যাইবে।

বাজেট১৫। ইনস্টিটিউট প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য আয়-ব্যয়সহ পরবর্তী অর্থ বৎসরের বাৎসরিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে ইনস্টিটিউটের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ উল্লেখ থাকিবে।

হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা১৬। (১) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে ইনস্টিটিউট উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিব।

(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বৎসর ইনস্টিটিউটের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও ইনস্টিটিউটের নিকট প্রেরণ করিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি ইনস্টিটিউটের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং বোর্ডের যে কোনো সদস্য বা ইনস্টিটিউটের কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।

(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষা ছাড়াও ইনস্টিটিউট প্রত্যেক বৎসর Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (P.O.No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত Chartered Accountant দ্বারা ইনস্টিটিউটের হিসাব নিরীক্ষা করাইতে পারিবে।

(৫) ইনস্টিটিউট, যথাশীঘ্র সম্ভব, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চিহ্নিত কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম প্রতিকার করিবার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।

প্রতিবেদন১৭। (১) প্রতি অর্থ বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে ইনস্টিটিউট উক্ত বৎসরের সম্পাদিত কার্যাবলির উপর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।

(২) সরকার, প্রয়োজনে, ইনস্টিটিউটের নিকট হইতে যে কোনো সময় উহার কার্যাবলির উপর প্রতিবেদন ও বিবরণী চাহিতে পারিবে এবং ইনস্টিটিউট উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।

ফি, ইত্যাদি১৮। (১) কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রাণিসম্পদ শিল্প স্থাপনা বা অনুসন্ধান বিষয়ক পরামর্শ প্রদান করিবার জন্য ইনস্টিটিউট বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হারে ফি আদায় করিতে পারিবে।

(২) উপধারা (১) এর অধীন প্রাপ্য ফি এর একটি নির্দিষ্ট অংশ সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বা তদূর্ধ্ব বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রাপ্ত হইবেন এবং অবশিষ্ট অংশ ইনস্টিটিউটের তহবিলে জমা হইবে।

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি১৯। (১) ইনস্টিটিউট কর্তৃক বা ইনস্টিটিউটের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা কর্মধারা প্রকাশিত প্রবন্ধ বা আর্টিকেল বা গবেষণালদ্ধ ফলাফল ইনস্টিটিউটের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হইবে।

(২) ইনস্টিটিউট উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সম্পত্তির পেটেন্ট (Patent) ও কপিরাইট (Copyright) অধিকার সংরক্ষণ করিবে বা, ক্ষেত্রমত, উক্ত সম্পত্তির ভৌগোলিক পণ্য নির্দেশক নিবন্ধন করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সম্পত্তি ইনস্টিটিউট, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বাণিজ্যিক বা অন্যবিধভাবে প্রাণিসম্পদের গবেষণা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারের জন্য যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করিতে পারিবে।

কমিটি২০। ইনস্টিটিউট উহার দায়িত্ব পালনে সহায়তা প্রদানের জন্য এক বা একাধিক কমিটি গঠন এবং এইরূপ কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

ক্ষমতা অর্পণ২১। বোর্ড, প্রয়োজনবোধে, উহার যে কোনো ক্ষমতা বা দায়িত্ব, সুনির্দিষ্ট শর্তে, মহাপরিচালক, কোনো সদস্য বা ইনস্টিটিউটের অন্য কোনো কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবে।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা২২। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা২৩। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ইনস্টিটিউট, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই আইন বা বিধির সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

রহিতকরণ ও হেফাজত২৪। (১) Livestock Research Institute Ordinance, 1984 (Ordinance No. XXVIII of 1984), অতঃপর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত Ordinance এর অধীন-

(ক) সম্পাদিত সকল কাজ বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীনকৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) গৃহীত কোনো ব্যবস্থা বা সূচিত কোনো কার্যধারা অনিষ্পন্ন বা চলমান থাকিলে এমনভাবে নিষ্পন্ন করিতে হইবে যেন উহা এই আইনের অধীন গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে;

(গ) ইস্যুকৃত কোনো আদেশ, প্রদত্ত কোনো নোটিশ, প্রস্তুতকৃত বাজেট প্রাক্কলন, স্কিম বা প্রকল্প এই আইনের অধীনে ইস্যুকৃত, প্রদত্ত, প্রণীত বা প্রস্তুতকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;

(ঘ) প্রণীত কোনো বিধি, প্রবিধান, জারিকৃত কোনো প্রজ্ঞাপন, প্রদত্ত কোনো আদেশ বা বিজ্ঞপ্তি এই আইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে এবং এই আইনের অধীন রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে; এবং

(ঙ) প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহ এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহারা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে।

(৩) উক্ত Ordinance রহিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে উক্ত Ordinance এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Livestock Research Institute এর-

(ক) সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধাদি, তহবিল, স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পত্তি, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, অন্য সকল দাবি ও অধিকার, সকল হিসাব বহি, রেজিস্টার, রেকর্ড এবং অন্যান্য দলিল ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, অতঃপর উক্ত ইনস্টিটিউট বলিয়া উল্লিখিত, এর সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, অর্থ দাবি ও অধিকার, হিসাব বহি, রেজিস্টার রেকর্ড এবং দলিল হিসাবে গণ্য হইবে;

(খ) সকল ঋণ, দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে বা উহার সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি, যথাক্রমে উক্ত ইনস্টিটিউটের ঋণ, দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে বা উহার সহিত সম্পাদিত চুক্তি বলিয়া গণ্য হইবে;

(গ) বিরুদ্ধে বা তদকর্তৃক দায়েরকৃত মামলা বা আইনগত কার্যধারা উক্ত ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে বা ইনস্টিটিউট কর্তৃক দায়েরকৃত মামলা বা আইনগত কার্যধারা বলিয়া গণ্য হইবে;

(ঘ) সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী উক্ত ইনস্টিটিউটের কর্মচারী হিসাবে গণ্য হইবেন এবং এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে তাহারা যে শর্তে চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন তাহারা এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে ইনস্টিটিউটের চাকরিতে নিয়োজিত এবং ক্ষেত্রমত, বহাল থাকিবেন;

(ঙ) বুদ্ধিবৃত্তিক ও গবেষণালব্ধ সম্পদ বা পরিসম্পদ ইনস্টিটিউটের অর্জিত এবং প্রাপ্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ২৫। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।

(২) এই আইন ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে।