বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৮

( ২০১৮ সনের ৬৯ নং আইন )

[ ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ]

Fisheries Research Institute Ordinance, 1984 রহিতক্রমে উহার বিধানাবলি বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতনভাবে আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন

যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন) দ্বারা ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক ফরমান দ্বারা জারিকৃত অধ্যাদেশসমূহের অনুমোদন ও সমর্থন সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তপশিলের ১৯ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হয় এবং সিভিল আপিল নং-৪৮/২০১১ তে সুপ্রীমকোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ায় উক্ত সময়কালের অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা লোপ পায়; এবং

যেহেতু ২০১৩ সনের ৭নং আইন দ্বারা উক্ত অধ্যাদেশসমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর রাখা হয়; এবং

যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া আবশ্যক বিবেচিত অধ্যাদেশসমূহ সকল স্টেক-হোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণ করিয়া প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে বাংলায় নূতনভাবে আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে; এবং

যেহেতু সরকারের উপরি বর্ণিত সিদ্ধান্তের আলোকে Fisheries Research Institute Ordinance, 1984 (Ordinance No. XLV of 1984) রহিতক্রমে উহার বিধানাবলি বিবেচনাপূর্বক সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতনভাবে আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল, যথা:-

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন১। (১) এই আইন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

সংজ্ঞা২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(১) ‘‘ইনস্টিটিউট’’ অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট;

(২) ‘‘কর্মচারী’’ অর্থ ইনস্টিটিউটের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী;

(৩) ‘‘কাউন্সিল’’ অর্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ১৩ নং আইন) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল;

(৪) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ পরিচালনা বোর্ড এর চেয়ারম্যান;

(৫) ‘‘তহবিল’’ অর্থ ইনস্টিটিউটের তহবিল;

(৬) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(৭) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(৮) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ ধারা ৮ এর অধীন গঠিত পরিচালনা বোর্ড;

(৯) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক; এবং

(১০) ‘‘সদস্য’’ অর্থ পরিচালনা বোর্ডের কোন সদস্য।

ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা৩। (১) Fisheries Research Institute Ordinance, 1984 (Ordinance No. XLV of 1984) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে।

(২) ইনস্টিটিউট একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইনস্টিটিউট ইহার নিজ নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।

ইনস্টিটিউটের কার্যালয়৪। (১) ইনস্টিটিউটের প্রধান কার্যালয় ময়মনসিংহ জেলা সদরে থাকিবে।

(২) ইনস্টিটিউট প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে উহার আঞ্চলিক কেন্দ্র বা উপ-কেন্দ্র স্থাপন করিতে পারিবে।

কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা প্রতিপালন৫। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ইনস্টিটিউট কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশ, সুপারিশ বা পরামর্শ প্রতিপালন করিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, যদি ইনস্টিটিউটের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উক্তরূপ কোন সুপারিশ বা পরামর্শ প্রতিপালন করা সম্ভব নহে, তাহা হইলে ইনস্টিটিউট, অনতিবিলম্বে কারণ উল্লেখপূর্বক উহার মতামত কাউন্সিলকে অবহিত করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর শর্তাংশের অধীন ইনস্টিটিউটের নিকট হইতে প্রাপ্ত মতামত বিবেচনা করিয়া কাউন্সিল তদকর্তৃক প্রদত্ত কোন সুপারিশ বা পরামর্শ সংশোধন বা বাতিল করিতে পারিবে বা উক্ত বিষয়ে নূতন কোন সুপারিশ বা পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবে।

পরিচালনা ও প্রশাসন৬। ইনস্টিটিউটের পরিচালনা ও প্রশাসন একটি বোর্ডের অধীন ন্যস্ত থাকিবে এবং ইনস্টিটিউট যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে, পরিচালনা বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।

ইনস্টিটিউটের কার্যাবলী৭। ইনস্টিটিউট নিম্নবর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন করিবে, যথা:-

(ক) মৎস্য বিষয়ক গবেষণা পরিচালনা ও সমন্বয় সাধন করা;

(খ) মৎস্য উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নিরাপদ খাদ্য হিসাবে বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে অধিকতর দক্ষ ও অর্থনৈতিক পন্থা উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনা করা;

(গ) গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রয়োগের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের মৎস্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের সহিত সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করা;

(ঘ) মৎস্য বিষয়ক সেমিনার, সভা, প্রশিক্ষণ এবং ওয়ার্কশপ আয়োজন করা;

(ঙ) দেশি ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহিত ক্ষেত্রমত যৌথ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা এবং এতদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান ও গ্রহণ করা;

(চ) গবেষণা বিষয়ক গবেষণা জার্নাল প্রকাশ করা; এবং

(ছ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যাবলী সম্পাদন করা।

পরিচালনা বোর্ড৮। (১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ড গঠিত হইবে, যথা:-

(ক) মন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, যিনি বোর্ডের চেয়ারম্যানও হইবেন;

(খ) প্রতিমন্ত্রী বা উপ-মন্ত্রী বা উভয়ই, যদি থাকেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, যাহারা বোর্ডের কো-চেয়ারম্যানও হইবেন;

(গ) স্পিকার কর্তৃক মনোনীত ২(দুই) জন সংসদ সদস্য;

(ঘ) সিনিয়র সচিব/সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, যিনি বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যানও হইবেন;

(ঙ) উপাচার্য, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়;

(চ) নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল;

(ছ) সদস্য (কৃষি, পানি সম্পদ ও পলস্নী প্রতিষ্ঠান), পরিকল্পনা কমিশন;

(জ) অর্থ বিভাগ কর্তৃক মনোনীত অন্যূন অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ঝ) মহাপরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর;

(ঞ) সরকার কর্তৃক মনোনীত ইনস্টিটিউটের গবেষণা কার্যক্রমে নিয়োজিত দুইজন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বা পরিচালক;

(ট) সরকার কর্তৃক মনোনীত মৎস্য ও মৎস্যপণ্য সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত দুই জন প্রতিনিধি, তাহাদের মধ্যে একজন হইবেন বিশিষ্ট মৎস্যজীবী এবং অপরজন মৎস্য ও মৎস্যপণ্য সম্পর্কিত বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধি; এবং

(ঠ) মহাপরিচালক, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে সদস্য পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ যে কোনো সময় চেয়ারম্যানের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করিতে পারিবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, চেয়ারম্যান কর্তৃক গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পদত্যাগ কার্যকর হইবে না।

(৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে মনোনয়ন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ মনোনীত কোনো সদস্যকে তাহার দায়িত্ব হইতে যে কোনো সময় অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।

(৫) বোর্ডের কোনো কার্য বা কার্যধারা বোর্ডের কোনো সদস্যপদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রম্নটি থাকিবার কারণে অবৈধ হইবে না।

বোর্ডের কার্যাবলী৯। পরিচালনা বোর্ডের কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক) ইনস্টিটিউটের কার্যাবলীর তত্ত্বাবধান এবং দিক নির্দেশনা প্রদান;

(খ) ইনস্টিটিউটের নীতিগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান;

(গ) ইনস্টিটিউটের প্রস্তাবিত নীতিমালা এবং কর্ম পরিকল্পনা অনুমোদন;

(ঘ) সরকারের নিকট হইতে বা অন্য কোন উৎস হইতে অনুদান গ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন;

(ঙ) ঋণ গ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন;

(চ) বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন; এবং

(ছ) উচ্চ শিক্ষা বা গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রস্তাব অনুমোদন।

বোর্ডের সভা১০। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) বোর্ডের সভা চেয়ারম্যান তাহার অনুপস্থিতিতে কো-চেয়ারম্যান এবং কো-চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে ভাইস-চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে।

(৩) বৎসরে ন্যূনতম ২(দুই) বার বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

(৪) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে কো-চেয়ারম্যান এবং কো-চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে ভাইস-চেয়ারম্যান উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৫) বোর্ডের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন অর্ধেক সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কোরাম হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।

(৬) বোর্ডের সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে প্রদত্ত ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভার সভাপতি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।

মহাপরিচালক১১। (১) ইনস্টিটিউটের জন্য একজন মহাপরিচালক থাকিবে।

(২) মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির মেয়াদ ও শর্তাবলী সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।

(৩) মহাপরিচালক ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী ও সার্বক্ষণিক কর্মচারী হইবেন এবং তিনি-

(ক) ইনস্টিটিউটের সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসনের দায়িত্বে থাকিবেন;

(খ) ইনস্টিটিউটের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিবেন;

(গ) বোর্ডের নীতি, আদেশ ও নির্দেশসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালন করিবেন;

(ঘ) সার্বিক কাজের জন্য বোর্ডের নিকট দায়ী থকিবেন; এবং

(ঙ) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, তাহার উপর অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করিবেন।

(৪) মহাপরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তাহার কার্যালয়ের কার্যক্রম বা দায়িত্ব সম্পাদনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা তিনি পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক নিযু্ক্ত কোনো ব্যক্তি মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করিবেন।

কর্মচারী নিয়োগ১২। ইনস্টিটিউট উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকরির শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

ইনস্টিটিউটের তহবিল১৩। (১) ইনস্টিটিউটের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে অর্থ জমা হইবে, যথা:-

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত মঞ্জুরি বা অনুদান;

(খ) গবেষণা স্বত্ব ও সেবা বা গবেষণা উদ্যোগ হইতে প্রাপ্ত আয়সহ ইনস্টিটিউটের নিজস্ব আয়;

(গ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনো দেশি বা বিদেশি সংস্থা বা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান বা সাহায্য;

(ঘ) ইনস্টিটিউটের অর্থ বিনিয়োগ হইতে প্রাপ্ত অর্থ বা উহার সম্পদ হইতে প্রাপ্ত অর্থ;

(ঙ) কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান; এবং

(চ) অন্য কোনো বৈধ উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

(২) তহবিলের অর্থ কোনো রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক বা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত তপশিলি ব্যাংকে ইনস্টিটিউটের নামে জমা রাখিতে হইবে।

(৩) তহবিল হইতে সরকারের বিধি-বিধান অনুসরণক্রমে ইনস্টিটিউটের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা যাইবে।

ব্যাখ্যা ।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘‘তপশিলি ব্যাংক’’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972 (President’s Order No. 127 of 1972) এর Article 2(j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank কে বুঝাইবে।

ফি, ইত্যাদি১৪। (১) ইনস্টিটিউটে কর্মরত বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বা তদূর্ধ্ব পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকতা, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মৎস্য শিল্প স্থাপনা বা অনুসন্ধান বিষয়ক পরামর্শ প্রদান করিবার জন্য বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হারে ফি প্রাপ্য হইবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্য ফিসের একটি নির্দিষ্ট অংশ, যাহা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত, উক্ত কাজের সহিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমে, প্রাপ্য হইবেন এবং অবশিষ্ট অংশ ইনস্টিটিউটের তহবিলে জমা হইবে।

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি১৫। (১) ইনস্টিটিউটের গবেষণা কর্ম দ্বারা প্রকাশিত প্রবন্ধ বা আর্টিকেল এবং উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের নিজস্ব সম্পত্তি হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং ইনস্টিটিউটের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান গবেষণালব্ধ ফলাফল সংক্রান্ত কোনো প্রবন্ধ বা আর্টিকেল প্রকাশ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর করিতে পারিবে না।

(২) ইনস্টিটিউট উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সম্পত্তির পেটেন্ট (Patent) ও কপিরাইট (Copyright) অধিকার সংরক্ষণ করিবে বা, ক্ষেত্রমত, উক্ত সম্পত্তির ভৌগোলিক পণ্য নির্দেশক নিবন্ধন করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সম্পত্তি ইনস্টিটিউট, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বাণিজ্যিক বা অন্যবিধভাবে মৎস্য সম্পদের গবেষণা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারের জন্য যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করিতে পারিবে।

ইনস্টিটিউটের বাজেট১৬। ইনস্টিটিউট, প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য আয়-ব্যয়সহ পরবর্তী অর্থ বৎসরের বাৎসরিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত বৎসরে সরকারের নিকট হইতে ইনস্টিটিউটের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহাও উল্লেখ থাকিবে।

হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা১৭। (১) ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক বলিয়া অভিহিত, এর সহিত পরামর্শক্রমে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে।

(২) মহা হিসাব-নিরীক্ষক যেইরূপ উপযুক্ত মনে করিবেন, সেইরূপ পদ্ধতিতে ইনস্টিটিউটের হিসাব নিরীক্ষিত হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে, মহা হিসাব-নিরীক্ষক বা এতদুদ্দেশ্যে তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ইনস্টিটিউটের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিতে পারিবেন এবং বোর্ডের যে কোনো সদস্য বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।

(৪) মহা হিসাব-নিরীক্ষক তাহার নিরীক্ষা প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবেন এবং উহার একটি কপি ইনস্টিটিউটের নিকট প্রেরণ করিবে।

বার্ষিক প্রতিবেদন১৮। (১) ইনস্টিটিউট প্রতি বছর তদকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন, যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকারের নিকট পেশ করিবে।

(২) সরকার, প্রয়োজনবোধে, ইনস্টিটিউটের নিকট হইতে যে কোনো সময় ইনস্টিটিউটের যে কোনো বিষয়ের উপর প্রতিবেদন ও বিবরণী আহবান করিতে পারিবে এবং কোনো পরিসংখ্যান বা অন্য কোনো তথ্য যাচনা করিলে ইনস্টিটিউট উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।

কমিটি১৯। ইনস্টিটিউট উহার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সহায়তা প্রদানের জন্য এক বা একাধিক কমিটি গঠন এবং উক্ত কমিটির দায়িত্ব ও কার্যপরিধি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

ক্ষমতা অর্পণ২০। ইনস্টিটিউটের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য মহাপরিচালক, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা উহাতে উল্লিখিত শর্তসাপেক্ষে উহার যে কোনো ক্ষমতা কোনো কর্মচারীর উপর অর্পণ করিতে পারিবে।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা২১। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা২২। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ইনস্টিটিউট, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

রহিতকরণ ও হেফাজত২৩। (১) Fisheries Research Institute Ordinance, 1984 (Ordinance No. XLV of 1984), অতঃপর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত Ordinance এর অধীন-

(ক) কৃত কোনো কাজ বা গৃহীত কোনো ব্যবস্থা, প্রদত্ত কোনো নোটিশ, প্রস্তুতকৃত বাজেট প্রাক্কলন, স্কিম বা প্রকল্প এই আইনের অধীন কৃত, গৃহীত, প্রদত্ত বা প্রস্তুতকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে; এবং

(খ) প্রণীত কোনো বিধি বা প্রবিধান, ইস্যুকৃত কোনো আদেশ, বিজ্ঞপ্তি বা প্রজ্ঞাপন রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে এবং এই আইনের অধীন প্রণীত বা ইস্যুকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(৩) উক্ত Ordinance রহিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে উক্ত Ordinance এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Institute এর-

(ক) সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা এবং স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পত্তি, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, অন্য সকল দাবি ও অধিকার, সকল হিসাব বহি, রেজিস্টার, রেকর্ড এবং অন্যান্য দলিল ইনস্টিটিউটের সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, দাবি ও অধিকার, হিসাব বহি, রেজিস্টার, রেকর্ড এবং দলিল হিসাবে গণ্য হইবে;

(খ) সকল ঋণ, দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে বা উহার সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি, যথাক্রমে ইনস্টিটিউটের ঋণ, দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা বা উহার সহিত সম্পাদিত চুক্তি বলিয়া গণ্য হইবে;

(গ) বিরুদ্ধে বা তদকর্তৃক দায়েরকৃত মামলা বা আইনগত কার্যধারা ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে বা ইনস্টিটিউট কর্তৃক দায়েরকৃত মামলা বা আইনগত কার্যধারা বলিয়া গণ্য হইবে; এবং

(ঘ) সকল কর্মচারী ইনস্টিটিউটের কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন এবং এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে তাহারা যে শর্তে চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন সেই একই শর্তে নিযুক্ত থাকিবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না ইনস্টিটিউট কর্তৃক তাহাদের চাকরির শর্তাবলী পরিবর্তিত হয়।

ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ২৪। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।

(২)। বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।