বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আইন, ২০১৮

( ২০১৮ সনের ৫৯ নং আইন )

[ ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ]

Bangladesh Shishu Academy Ordinance, 1976 রহিতক্রমে উহার বিধানাবলি বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতন আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন

যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন) দ্বারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হইতে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক ফরমান দ্বারা জারিকৃত অধ্যাদেশসমূহের অনুমোদন ও সমর্থন সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তপশিলের ৩ক ও ১৮ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হয় এবং সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং ১০৪৪-১০৪৫/২০০৯ এ সুপ্রীমকোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী সংবিধান (পঞ্চম সংশোধন) আইন, ১৯৭৯ (১৯৭৯ সনের ১নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ায় উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা লোপ পায়; এবং

যেহেতু ২০১৩ সনের ৬নং আইন দ্বারা উক্ত সময়কালের অধ্যাদেশসমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ জনস্বার্থে কার্যকর ও বলবৎ রাখা হয়; এবং

যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া আবশ্যক বিবেচিত অধ্যাদেশসমূহ সকল স্টেকহোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মতামত গ্রহণ করিয়া প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে বাংলায় নূতন আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে; এবং

যেহেতু শিশুদের সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক বিনোদনমূলক ও শিক্ষামূলক কার্যাবলি এবং তদ্‌সম্পর্কিত বিষয়াদির উন্নতি বিধানকল্পে শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং তদ্‌সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন; এবং

যেহেতু সরকারের উপরি-বর্ণিত সিদ্ধান্তের আলোকে Bangladesh Shishu Academy Ordinance, 1976 (Ordinance No. LXXIV of 1976) রহিতক্রমে উহার বিধানাবলি বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন১। (১) এই আইন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আইন, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

সংজ্ঞা২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(১) ‘‘একাডেমি’’ অর্থ ধারা ৩ এ বর্ণিত বাংলাদেশ শিশু একাডেমি;

(২) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ ধারা ১০ এর অধীন নিযুক্ত একাডেমির চেয়ারম্যান;

(৩) ‘‘তহবিল’’ অর্থ একাডেমির তহবিল;

(৪) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(৫) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(৬) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ ধারা ৬ এর অধীন গঠিত একাডেমির ব্যবস্থাপনা বোর্ড;

(৭) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ একাডেমির মহাপরিচালক;

(৮) ‘‘শিশু’’ অর্থ শিশু আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ২৪ নং আইন) তে সংজ্ঞায়িত শিশু;

(৯) ‘‘সদস্য’’ অর্থ ধারা ৬ এর অধীন গঠিত ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্য; এবং

(১০) ‘‘সাম্মানিক ফেলো’’ অর্থ ধারা ৯ এ বর্ণিত ক্ষেত্রে ও পদ্ধতিতে একাডেমি কর্তৃক সম্মাননা প্রাপ্ত ব্যক্তি।

একাডেমি প্রতিষ্ঠা৩। (১) Bangladesh Shishu Academy Ordinance, 1976 (Ordinance No. LXXIV of 1976) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিশু একাডেমি (Bangladesh Shishu Academy) এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত।

(২) একাডেমি একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।

একাডেমির কার্যালয়৪। (১) একাডেমির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।

(২) একাডেমি, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে উহার শাখা স্থাপন, স্থানান্তর বা বিলুপ্ত করিতে পারিবে।

পরিচালনা ও প্রশাসন৫। (১) একাডেমির সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসনের দায়িত্ব একটি বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং একাডেমি যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে, বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।

(২) বোর্ড উহার দায়িত্ব পালন ও কার্যসম্পাদনের ক্ষেত্রে এই আইন, বিধি, প্রবিধান ও সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশনা অনুরসরণ করিবে।

ব্যবস্থাপনা বোর্ড গঠন, ইত্যাদি৬। (১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একাডেমির ব্যবস্থাপনা বোর্ড গঠিত হইবে, যথা :-

(ক) একাডেমির চেয়ারম্যান, যিনি বোর্ডের চেয়ারম্যানও হইবেন;

(খ) মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমি;

(গ) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি;

(ঘ) ডিন, চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়;

(ঙ) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(চ) অর্থ বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উক্ত বিভাগের অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ছ) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(জ) তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ঝ) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ঞ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ট) স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উক্ত বিভাগের অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ঠ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ড) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ঢ) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ণ) শিশু কল্যাণ পরিষদের ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ত) সরকার কর্তৃক মনোনীত শিশুদের উন্নয়নে বিশেষভাবে অবদান রাখিয়াছেন এমন ৪ (চার) জন প্রতিনিধি, যাহাদের মধ্যে ২ (দুই) জন মহিলা হইবেন; এবং

(থ) একাডেমির মহাপরিচালক, যিনি বোর্ডের সদস্য-সচিবও হইবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ত) এ উল্লিখিত মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে সরকার, যে কোনো সময়, কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে উক্তরূপ মনোনীত কোনো সদস্যকে তাহার পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে বা মনোনীত কোনো সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে স্বীয় স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করিতে পারিবেন।

(৩) কোনো মনোনীত সদস্য ধারাবাহিক ৩ (তিন)টি সভায় অনুপস্থিত থাকিলে তাহার সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবসান বা বিলুপ্ত হইবে এবং তদ্‌পরিবর্তে নূতন সদস্য মনোনীত হইবেন।

(৪) যদি কোনো মনোনীত সদস্যের সদস্য পদে বহাল থাকিবার মেয়াদের মধ্যে বোর্ডের কোনো সদস্য পদ শূন্য হয় তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ১ (এক) জন নূতন সদস্য মনোনীত করিবে এবং এইরূপে মনোনীত সদস্য তাহার পূর্বসুরির অনতিক্রান্ত সময় পর্যন্ত উক্ত পদে বহাল থাকিবেন।

বোর্ডের সভা৭। (১) বোর্ড প্রতি ৬ (ছয়) মাসে কমপক্ষে একবার সভায় মিলিত হইবে এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধাতি তারিখ, সময় ও স্থানে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

(২) বোর্ডের সভার কোরামের জন্য অন্যূন ৭ (সাত) জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হইবে।

(৩) বোর্ডের সভায় প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট (Casting Vote) প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।

(৪) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে উপস্থিত সদস্যবৃন্দ কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্বাচিত একজন সদস্য সভাপতির দায়িত্ব পালন করিবেন।

(৫) বোর্ডের কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তদসম্পর্কে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।

একাডেমির কার্যাবলি৮। একাডেমির কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক) শিশুদের মধ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বদেশ প্রেম, নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সৃজনশীল ও সুকুমার বৃত্তিসহ সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ;

(খ) শিশুদের সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক, বিনোদন ও শিক্ষামূলক কর্মতৎপরতার উন্নয়ন;

(গ) শিশুদের শারীরিক বিকাশ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ বিপর্যয়, বর্জ্য-ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ;

(ঘ) শিশুতোষ সাহিত্য সৃষ্টি ও বিকাশ;

(ঙ) প্রতিবন্ধী এবং অটিজম ও স্নায়ু বিকাশজনিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের উন্নয়নে কার্যক্রম গ্রহণ;

(চ) ডিজিটাল যুগের উপযোগী করিয়া শিশুদের গড়িয়া তুলিবার জন্য কার্যক্রম গ্রহণ;

(ছ) একাডেমির পক্ষে ও একাডেমির জন্য তহবিল, জামানত (securities) ও এইরূপ অন্য কোনো দলিল এবং অন্য কোনো স্থাবর অথবা অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ;

(জ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, একাডেমির নিজস্ব তহবিলের বিনিয়োগ এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে বিনিয়োগসমূহ পরিবর্তন;

(ঝ) জামানতসমূহ (securities) ক্রয়বিক্রয়, অনুমোদন, হস্তান্তর, বিনিময় কিংবা অন্য কোনো প্রকারে তদসম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ;

(ঞ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে একাডেমির সম্পত্তিসমূহ জামানত বা বন্ধক প্রদান অথবা অন্য কোনো প্রকারের দায় সৃষ্টি;

(ট) একাডেমির প্রয়োজনে যে কোনো চুক্তি ও প্রয়োজনীয় দলিল সম্পাদন :

তবে শর্ত থাকে যে, সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে কোনো বিদেশি সরকার, বিদেশি সংস্থা বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার সহিত এইরূপ কোনো চুক্তি অথবা কোনো দলিল সম্পাদন করা যাইবে না।

(ঠ) শিশুদের উপর গবেষণা কার্য পরিচালনা এবং গবেষণাপত্র ও উপকরণাদি প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ;

(ড) শিশুদের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের নিকট সুপারিশ পেশ; এবং

(ঢ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রয়োজনীয় এবং সহায়ক অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা।

সাম্মানিক ফেলো, ইত্যাদি৯। (১) শিশুর সামগ্রিক বিকাশ ও উন্নয়নে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, শিল্পকলা অথবা সামাজিক বিশেষ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অবদান রাখিবার জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উপ-ধারা (২) এর অধীন গঠিত কমিটির অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাম্মানিক ফেলো প্রদান করা যাইবে।

(২) বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাম্মানিক ফেলো প্রদানের লক্ষ্যে নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠিত হইবে, যথা:-

(ক) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী, যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়;

(গ) একাডেমির চেয়ারম্যান;

(ঘ) একাডেমির মহাপরিচালক;

(ঙ) সরকার কর্তৃক মনোনীত বোর্ডের ২ (দুই) জন সদস্য;

(চ) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার ১ (এক) জন প্রতিনিধি, যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

চেয়ারম্যান নিয়োগ, মেয়াদ, পদত্যাগ, অপসারণ, ইত্যাদি১০। (১) সরকার, প্রথিতযশা শিশু সাহিত্যিক বা শিশু সংগঠক বা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অথবা স্বাধীনতা পদক বা একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ বা সাহিত্যিকগণের মধ্য হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে একাডেমির ১ (এক) জন চেয়ারম্যান নিযুক্ত করিবে।

(২) চেয়ারম্যান যে কোনো সময় সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

(৩) এই আইন লঙ্ঘন বা গুরুতর অনিয়ম বা অসদাচরণের অভিযোগে বোর্ডের অন্যূন ১২ (বারো) জন সদস্য চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অনাস্থা জ্ঞাপন করিলে, একাডেমি উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে এবং সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।

(৪) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা অথবা অন্য কোনো কারণে চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্যপদে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন।

মহাপরিচালক নিয়োগ১১। (১) একাডেমির ১ (এক) জন মহাপরিচালক থাকিবে।

(২) সরকার মহাপরিচালক নিয়োগ করিবে এবং তাহার চাকরির শর্তাবলি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।

(৩) মহাপরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি অথবা অসুস্থতা অথবা অন্য কোনো কারণে মহাপরিচালক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্যপদে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা মহাপরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত চাকরির জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে পরিচালকগণ মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করিবেন।

(৪) মহাপরিচালক একাডেমির সার্বক্ষণিক প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং তিনি এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে কার্যাবলি সম্পাদন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন।

(৫) মহাপরিচালক বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাসত্মবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন এবং বোর্ডের পক্ষে একাডেমির প্রশাসন পরিচালনা করিবেন।

একাডেমির কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি১২। (১) একাডেমি ইহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।

(২) একাডেমির কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

তহবিল১৩। (১) একাডেমির একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা:-

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(খ) কোনো ব্যক্তি অথবা বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(গ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বিদেশি সরকার বা সংস্থা হইতে প্রাপ্ত ঋণ ও অনুদান;

(ঘ) দান এবং বৃত্তির (এনডাউমেন্ট) অর্থ;

(ঙ) বিনিয়োগ হইতে প্রাপ্ত সুদ বা লভ্যাংশ; এবং

(চ) অন্য কোনো বৈধ উৎস হইতে প্রাপ্ত সকল অর্থ।

(২) তহবিলের অর্থ, বোর্ডের অনুমোদনক্রমে, কোনো তপশিলি ব্যাংকে একাডেমির নামে জমা রাখিতে হইবে।

(৩) বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করিতে হইবে।

(৪) সরকারের নিয়মনীতি ও বিধি-বিধান অনুসরণক্রমে তহবিলের অর্থ হইতে কর্মচারীদের বেতন ও ভাতাদি পরিশোধসহ একাডেমির প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা যাইবে।

ব্যাখ্যা ।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘‘তপশিলি ব্যাংক’’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972 (President’s Order No. 127 of 1972) এর Article 2 (j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank কে বুঝাইবে।

বাজেট১৪। একাডেমি প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য আয়-ব্যয়সহ পরবর্তী অর্থ বৎসরের বাৎসরিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত বৎসরে সরকারের নিকট হইতে একাডেমির সম্ভাব্য কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।

হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা১৫। (১) একাডেমি, সরকার কর্তৃক নির্দেশিত পদ্ধতিতে অর্থ ব্যয়ের যথাযথ হিসাবরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।

(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর এই ধারায় মহা হিসাব-নিরীক্ষক বলিয়া অভিহিত, প্রতি বৎসর একাডেমির হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের অনুলিপি একাডেমি ও সরকারের নিকট পেশ করিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উপর কোনো আপত্তি উত্থাপিত হইলে উহা নিষ্পত্তির জন্য একাডেমি অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

(৪) উপ-ধারা (২) এ উলিস্নখিত নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (President’s Order No. 2 of 1973) এর Article 2 (1) (b) এ সংজ্ঞায়িত চার্টার্ড একাউনটেন্ট দ্বারা একাডেমির হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে একাডেমি এক বা একাধিক চার্টার্ড একাউনটেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে।

(৫) একাডেমির হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতা প্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা উপ-ধারা (৪) এর অধীন নিয়োগকৃত চার্টার্ড একাউনটেন্ট একাডেমির সকল রেকর্ড, দলিলাদি, বার্ষিক ব্যালেন্স সিট, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার বা অন্যবিধ সম্পত্তি, ইত্যাদি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং চেয়ারম্যান, সদস্য, মহাপরিচালক বা একাডেমির যে কোনো কর্মচারীর নিকট হইতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করিতে পারিবে।

(৬) এই ধারার বিধানাবলি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ (২০১৫ সনের ১৬ নং আইন) এর বিধানাবলি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, অনুসরণ করিতে হইবে।

বার্ষিক প্রতিবেদন১৬। (১) প্রতি অর্থ বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে একাডেমি উক্ত বৎসরের সম্পাদিত কার্যাবলির উপর নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণীসহ একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে।

(২) সরকার, প্রয়োজনে, একাডেমির নিকট হইতে যে কোনো সময় একাডেমির যে কোনো বিষয়ের উপর প্রতিবেদন ও বিবরণী আহবান করিতে পারিবে এবং একাডেমি উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা১৭। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা১৮। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, একাডেমি, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

রহিতকরণ ও হেফাজত১৯। (১) Bangladesh Shishu Academy Ordinance, 1976 (Ordinance No. LXXIV of 1976), অতঃপর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত Ordinance এর অধীন-

(ক) কৃত কোনো কার্য বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) Bangladesh Shishu Academy, অতঃপর Academy বলিয়া উল্লিখিত, কর্তৃক বা উহার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোনো মামলা বা গৃহীত কার্যধারা বা সূচিত যে কোনো কার্যক্রম অনিষ্পন্ন থাকিলে উহা এমনভাবে নিষ্পন্ন করিতে হইবে যেন উহা এই আইনের অধীন দায়েরকৃত, গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে;

(গ) Academy কর্তৃক সম্পাদিত কোনো চুক্তি, দলিল বা ইনস্ট্রুমেন্ট এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন সম্পাদিত হইয়াছে;

(ঘ) Academy এর সকল ঋণ, দায় ও আইনগত বাধ্যবাধকতা এই আইনের বিধান অনুযায়ী সেই একই শর্তে একাডেমির ঋণ, দায় ও আইনগত বাধ্যবাধকতা হিসাবে গণ্য হইবে;

(ঙ) কোনো চুক্তি বা চাকরির শর্তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন প্রবর্তনের পূর্বে Academy এর সকল কর্মচারী যে শর্তাধীনে চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন, তাহারা এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে একাডেমির চাকরিতে নিয়োজিত এবং ক্ষেত্রমত, বহাল থাকিবে; এবং

(চ) Academy এর সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও সুবিধা, তহবিল, স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পত্তি, নগদ অর্থ ব্যাংকে জমা ও সিকিউরিটিসহ তহবিল এবং এতদ্‌সংশ্লিষ্ট সকল হিসাব বই, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্রসহ অন্যান্য সকল দলিল-দস্তাবেজ এই আইন প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একাডেমিতে হস্তান্তরিত এবং একাডেমি উহার অধিকারী হইবে।

(৩) উক্ত Ordinance রহিত হওয়া সত্ত্বেও উহার অধীন প্রণীত কোনো বিধি বা প্রবিধান, জারিকৃত কোনো প্রজ্ঞাপন, প্রদত্ত কোনো আদেশ, নির্দেশ, অনুমোদন, সুপারিশ, প্রণীত সকল পরিকল্পনা বা কার্যক্রম এবং অনুমোদিত সকল বাজেট উক্তরূপ রহিতের অব্যবহিত পূর্বে বলবৎ থাকিলে, এই আইনের কোনো বিধানের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অনুরূপ বিধানের অধীন প্রণীত, জারিকৃত প্রদত্ত এবং অনুমোদিত বলিয়া গণ্য হইবে এবং মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অথবা এই আইনের অধীন রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে।

ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ২০। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।

(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।